শনিবার, ৫ মার্চ, ২০১১

বাংলাদেশের বিষণ্ণতম বিকেল

বাংলাদেশের আজ বড় দুঃখের দিন।

ঢাকা শহরটা এই মুহুর্তে বড় নীরব, থমথমে। ইলিয়াস সাহেবের ম্লান,মনোরম,মনোটোনাস ঢাকা এখন মৃত। পথঘাটে মানুষের চলাচল বিস্ময়করভাবে কম বলে মনে হচ্ছে। পাশের গলিতে ছেলেরা দল বেঁধে ক্রিকেট খেলে বিকালে। সেই গলিতে ব্যাটবলের আওয়াজ পাওয়া যায়নি আজ। কেনো ??

কারণ কি এটাই, আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃস্মরণীয় দিনটিতে মীরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট-ইন্ডিজ লিখে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের একালের এলিজি ??


বাংলাদেশের ষোলো কোটি মানুষ আশা করে ছিলো। পরের পর্বে উত্তরণের জন্যে ওয়েস্ট-ইন্ডিজ বধ ছিলো আবশ্যক। সাম্প্রতিক রেকর্ড, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আর দেশের মাটির সমর্থনে কাজটা কঠিন হলেও অবাস্তব ছিলো না। মাঠে কি দেখা গেলো তার বদলে ??

ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দল ৫৮ রানে অলআউট। মাত্র ৫৮ রানে !! জবাবে স্মিথের একটিমাত্র উইকেট হারিয়ে ১২.২ ওভারে ৫৯ রান তুলেছে ওয়েস্ট-ইন্ডিজ। বিশ্বকাপে কোন টেস্ট প্লেয়িং দলের এটি সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড। কানাডা ৩৬ আর নামিবিয়া ৪৫ করেছে এর আগে, তারা কেউই আইসিসির পূর্ণ সদস্য না।

আজই আহমেদাবাদের মাটিতে প্রায় একই সময়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে দশ উইকেটে হেরেছে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের চেয়ে শ'খানেক রান কম করেও হেরেছে নয় উইকেটে। খারাপ কি ??...

নাহ, এই সাফাই গাইবো না। খেলা যারা দেখেছেন, তারা মাত্রই জানেন কি ভয়ংকর ভঙ্গুর লেগেছে আজ বাংলাদেশের ব্যাটিং। আজ ছিলো ক্রিকেটের বিরলতম সেইসব দিনের একটি, যেদিন কোন কিছুই কাজ করে না ঠিকমত। রকিবুলের আলতো পাঞ্চচলে যাচ্ছে পয়েন্টের হাতে, তামিম-আশরাফুল বাইরের বলে সপাটে চালিয়ে পিছনে ধরা পড়ছেন পিছনে, সাকিব হচ্ছেন দোনামোনা সুইপে বোল্ড। এক জুনায়েদই যা কিছু খেলছিলেন। দিনের সেরা বলটিতে তাকেও ফেরালেন রোচ। বিপক্ষ বোলারেরা বিনা আয়াসে পেয়ে যাচ্ছেন একের পর এক উইকেট। প্রতিটি ফিল্ডারের জায়গা বদল হওয়া মাত্র সেখানে ক্যাচ যাচ্ছে। প্রতিটি বিরতি আর বোলিং পরিবর্তনে উইকেট পড়ছে। 'ম্যালেনা' ছবির মনিকে বেলুচ্চির মতোই রোচ, স্যামি আর সুলিমান বেন নগ্ন-উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন আমাদের ব্যাটিং ভঙ্গুরতার স্বরুপ।

কেবল টিভির পর্দায় দেখেই আমার মত দর্শকদের মন খারাপ হয়ে গ্যাছে, মাঠের গ্যালারীকে লাল-সবুজে মাতাতে সেজে গিয়েছিলেন যেসব দর্শক; তাদের অবস্থাটা কতটুকু শোচনীয়, কে জানে।

ধিক্কার তো তামিম-সাকিব তাই পাবেই। পাওয়াটা উচিৎ। আরে ব্যাটা, জাতীয় দলের ক্রিকেটার হয়েছিস বলে মাথা কিনে নিয়েছিস নাকি ?? বয়েস ২৩-২৪ বলে টাকা কম পাস নাকি ?? ৫৮ রানে অলআউট মানুষে হয় ?? বা* ফেলা ছাড়া আর কিছু করতে পেরেছিস জীবনে ?? ...

কিচ্ছুটি না, কিচ্ছু করতে পারেনি এরা। বেশিরভাগ টেস্ট ম্যাচ চারদিনে হেরে এসেছে। শেষ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ম্যাচ হারিয়েছে। কানাডা-আয়ারল্যান্ডের কাছে ম্যাচ হেরেছে।

অতএব, ভুলে যান বারবারই ষোলো কোটির চোখের পানি মুছিয়ে এরাই লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছে বারবার। ভুলে যান, 'জয়ে পরাজয়ে বাংলাদেশ দলের পাশে আছি' বলে ফেসবুকের ঠুনকো লাইক মারাটা। ভুলে যান, যা শেয়ার করেছেন বারবার-  Never Stop Believing আপ্তবাক্য।

... ধিক্কার টাইগারদের অবশ্যই দেবেন। শেষ ওভারে ১৭ রান দিলে ধিক্কার দেবেন। ক্যাচ ছেড়ে ম্যাচ হারলে ধিক্কার দেবেন। সেট হয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলে ধিক্কার দেবেন। ধিক্কার না দিলে বাস্তবতার চাপ সামলাবে কীভাবে ছেলেরা ?? তবে আজ নয়। আজ দুঃস্বপ্নের দিন। দুঃস্বপ্নে ধিক্কার আর দুয়ো দিয়ে লাভ কোথায়। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ তো সহসাই আর আসবে না। ধিক্কার দেবার সময় পরে অনেক আসবে। আজ দুয়ো দিয়ে গেলে যে দলের একতায় ফাটল ছিদ্রান্বেষণকারী সাংবাদিকের সাথে একই কাতারে নামতে হয় আমাদেরও।

ঠিক জানি, এটা আমাদের দলের প্রকৃত সামর্থ্য নয়। দুঃস্বপ্নের দিন বলে ইনসেপশনের মত লিম্বোতে আটকে গিয়ে এটাকেই দলের আসল অবস্থা বলে দাবি করবেন না, প্লিজ।

ফিনিক্স পাখির মতো ফিরে এসেছিলো ম্যালেনা আর ভোল পালটে শহরবাসী কুর্ণিশ করেছিলো তাকে।

বারবার বেশ বদলানো কষ্টের। আমি তাই টাইগারদের পাশেই থাকি। দুঃসময়ে প্রিয়জনের পাশে থাকতে হয়। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন