সোমবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০১১

সহযাত্রী

গাড়িটা নতুন কিনেছিলাম। দারুণ জিনিস। বড়সড় একটা বিএমডব্লু, তেল ভরাও যায় সহজে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২৯ মাইল যেতে পারে, ফ্যাকাশে নীল রঙ। ভেতরের বসবার গদিগুলো গাঢ় নীল চামড়ায় মোড়া। এক্কেবারে খাঁটি চামড়া। জানালা আর মাথার উপরের রোদছাউনী খোলে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায়। রেডিওর সুইচ চাপলেই লম্বা এন্টেনা বেরিয়ে আসে- সুইচ চাপলেই আবার ভেতরে ঢুকে পড়ে। নীচু গতিতে চালালে গাড়ির শক্তিশালী ইঞ্জিনটা নানারকম শব্দ শোনায়, কিন্তু ঘণ্টায় ৬০ মাইল বেগে যখন চলে, ... হুঁ হঁ বাবা, একেবারে পঙ্খীরাজ !



সেই গাড়িতেই, জুন মাসের চমৎকার এক সকালে নীলনগর যাচ্ছিলাম। নিজেই গাড়ি চালাচ্ছি। পথের দুই ধারে চাষীরা আগাছাটাগাছা কেটে নিচ্ছে, বেশ চমৎকার ফুলটুল ফুটে রয়েছে; আর এর মাঝে আমি নীলনগর-ইন্দ্রাকপুর মহাসড়কে ৭০ মাইল বেগে গাড়ি চালাতে চালাতে নিজের মনে গুণগুণ করছি। গদিতে আরামসে হেলান দিয়ে স্টিয়ারিং-এ আলতো আঙুল রেখেছি। ...হঠাৎই লোকটাকে সামনে দেখতে পেলাম-  হাত দেখিয়ে গাড়িতে উঠতে চাইছে। ব্রেক চেপে ধরে গাড়িটাকে লোকটার পাশেই থামালাম। সবসময়ই এ জাতীয় লোকেদের আমি 'লিফট' দেই। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়িগুলোকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে দেখলে কী রকম হতাশাগ্রস্ত হতে হয়, আমি তা জানি। এ জাতীয় গাড়ি যারা চালায়- তাদেরকে আমি একদম সহ্য করতে পারি না। বিশেষ করে, যখন গাড়িটা হয় বিশাল- যার তিনটে সিট এমনিতেই ফাঁকা। বড় গাড়িগুলো খুব কমই দাঁড়ায়। দাঁড়ায় হচ্ছে সেসব গাড়িগুলো, যেগুলো আকারে মাঝারি- বাচ্চাকাচ্চা আর গাট্টিবোঁচকাতে বোঝাই- যাদের চালক আপনাকে দেখে কান চুলকে বলবে, " আল্লার নাম লয়া ঢুইক্যা পড়েন। ঠাসা্‌ঠাসি্‌ কইর‍্যা আরেকজন বইতে পারবেন।" ...

সাহায্যপ্রার্থী ইতিমধ্যে খোলা জানালার ফাঁক গলে নিজের মাথা ঢুকিয়ে দিয়েছে। " নীলনগরের দিকে যাচ্ছেন নাকি, স্যার ? "

- " হ্যাঁ, উঠে পড়ো।"

সে আমার পাশের সিটে উঠে পড়তেই আমি আবারো গাড়ি ছুটিয়ে দিলাম। ছোটোখাটো একটা মানুষ। ধূর্ত চোখগুলো এদিকওদিক চাইছে, হলদে দাঁত আর ছুঁচালো কান। মাথায় একটা কাপড়ের টুপি। ধূসর রঙের একটা পাঞ্জাবি, তাতে আবার প্রচুর পকেট। সবকিছু মিলিয়ে লোকটাকে দেখে কেনো জানি ইঁদুরের কথা মনে হলো আমার, বিশাল মানুষের আকৃতির একটা ইঁদুর।

- " নীলনগরে কোথায় যাবে ? " প্রশ্ন করলাম।

- " এক্কেবারে নীলনগরের শেষমাথায়- রেসকোর্সে। " লোকটা উত্তর দিলো। " আজ আবার ঘোড়দৌড় আছে কি না। ওই ঘোড়ার রেস আর কি। "

- " অ ! ভালোই তো। তুমি তাহলে রেস খেলতে ভালোবাসো খুব।"

- " জী না স্যার, বলতে গেলে একদম দেখতেই পারি না ওটা। ফালতু ব্যাপারস্যাপার।"

- " সে কী ! তবুও যাচ্ছো যে ? "

লোকটা প্রশ্নটা পছন্দ করেছে বলে মনে হলো না। তার ইদুঁরে মুখখানায় কোন অভিব্যাক্তি দেখা গেলো না- সে বরং সামনের রাস্তার দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।  

- " তাহলে আমার মনে হয় তুমি ঘোড়দৌড়ের টিকিট কেনাবেচা করো বা ওই জাতীয় কিছু। " আমি বললাম।

- " সেটাতো আরো ফালতু !! দিন রাত ওইসব মুলামুলি করার মাঝে কোন বাহাদুরিটা আছে ? একমাত্র গাধা লোকেরা ছাড়া ওই কাজ করা কারো পোষায় না। "

এরপরে একটা দীর্ঘ নীরবতা। লোকটাকে আর প্রশ্ন করবো না ঠিক করলাম। যখন এইভাবে আমিও পায়ে হেঁটে আর গাড়িতে গাড়িতে লিফট চেয়ে গ্রামের দিকে ঘুরতে যেতাম, তখন গাড়ির চালকদের অনর্গল প্রশ্ন যে কী বিরক্তিকর লাগতো- সেইসব কথা মনে পড়ে গেলো। কই যাও ? কেনো যাও ? কি কাজ করো ? ... আরো নানা হ্যানোত্যানো। বিরক্তিকর !

- " দুঃখিত। " আমি বললাম। " তুমি কি কাজ করো সেটা আসলে আমার জানার কোন দরকারই নেই। কী জানো, আমি একজন লেখক। আর বেশিরভাগ লেখকই আমার মতো খুঁতখুঁতে। "

- " আপনি বই লেখেন ?" জানতে চাইলো লোকটা।

- " হ্যাঁ। "

- " বই লেখা কাজটা ঠিক আছে। এই কাজটাকে আমি একটা সুদক্ষ শিল্পই বলবো। কী জানেন, যেসব মানুষ সারাটা জীবন ধরে একইরকম গৎ বাঁধা কাজ করে যায় কোনরকম দক্ষতা অর্জন ছাড়া, সেসব লোক আমার দুই চোখের বিষ। ... বুঝতে পারছেন তো, আমি কি বলতে চাইছি ? " 

- " হ্যাঁ, অবশ্যই। "

-" জীবনের আসল সাফল্য বলতে যা কিছু, " লোকটা বলে। " সেটা হলো এমন কিছুতে দক্ষতা অর্জন করা, যেটা স্বাভাবিকভাবে বেশ দুরুহ। "

- " তোমার মতো ? " প্রশ্ন করলাম আমি।

- " একদম ঠিক। আমার এবং আপনার মতো। "

- " আমার মতো ? ... তা কী করে তোমার মনে হলো, যে আমি আমার কাজটায় দক্ষ ? " জিজ্ঞাসা করলাম। " আজকাল তো চারিদিকেই সস্তা লেখকের ছড়াছড়ি। "

- " এরকম একটা গাড়ির মালিক হতে গেলে আপনার পসার অবশ্যই ভালো হতে হবে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ছিমছাম এই গাড়িটা কিনতে আপনার বেশ মোটা অংকের খরচই করতে হয়েছে। " লোকটা বলে।

- " তা ঠিক, গাড়িটা সস্তার নয়। " বলি আমি।

- " কতটা জোরে চলতে পারে এটা। "

- " ঘণ্টায় ১২৯ মাইল ! " গর্বের সাথে আমি জানাই।

- " অসম্ভব !! এতো জোরে ছোটা কোনভাবেই সম্ভব না। "

- " তোমার ধারণা ভুল। "

- " গাড়ির দোকানদারেরা মিথ্যে বলে। " লোকটা বলে। " এমন কোন গাড়ির দোকান আপনি পাবেন না, যেখানে ওরা গাড়ি সম্পর্কে মিথ্যে বলে না। "

- " এইক্ষেত্রে ওরা সত্যই বলেছে। বাজি ধরতে পারো।"

- " বেশ। " লোকটা ঊৎসাহ নিয়ে সোজা হয়ে বসে হঠাৎ। " বাজি। পারলে এটাকে ১২৯ মাইলে চালিয়ে আমার কথা ভুল প্রমাণ করুন।... জোরসে টান দিন স্যার, দেখা যাক এই গাড়ি অত জোরে চলতে পারে কি না। "

সামনের গোলচক্করটাকে পেছনে ফেলবার পরেই রাস্তাটা সোজা বহুদূর চলে গেছে। গতি বাড়ানোর জন্যে ওটাই আদর্শ জায়গা। কাজেই গোলচক্করটা পেরিয়ে এসেই আমি সজোরে এক্সেলারেটরে নিজের পা'টা চেপে ধরলাম। বড়সড় গাড়িটা খোঁচা খাওয়া ঘোড়ার মতোই লাফ দিয়ে সামনে বাড়লো। দশ সেকেন্ডের মধ্যে গতি উঠে এলো ৯০ মাইলে।

- " দারুণ !! " চাপা উত্তেজনায় চীৎকার করে বলে ওঠে লোকটা। " চমৎকার। আরো জোরে !! "

এক্সেলারেটরে চাপ বাড়ালাম আমি।

- " একশো ! " লোকটা এবার বেশ জোরেই চ্যাঁচায়। " একশো পাঁচ... একশো দশ... একশো পনেরো !! সাব্বাশ স্যার !! দারুণ দেখাচ্ছে গাড়িটা। ছেড়ে দেবেন না যেন, আরেকটু জোরে টানতে হবে। "

চোখের পলকে আমরা সামনের চলন্ত গাড়িগুলোকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে এলাম। সাদা একটা ল্যান্ড রোভার, সবজেটে একখানা প্রাইভেট কার, কালো রঙের একটা বড়সড় ট্রাক- এই সবগুলো এত দ্রুত পেছনে পড়ে গেলো যে মনে হচ্ছিলো তারা থেমে আছে।

- " একশো বিশ !! " আমার সহযাত্রী উল্লসিত হয়ে ওঠে। " আর অল্প এক-টু। ... সামান্য ...। দেখিয়ে দিন স্যার, একশো উনত্রিশ তো ধরেই ফেললেন প্রায়। "

ঠিক এইসময় আমি পুলিশের সাইরেন শুনতে পেলাম। আওয়াজটা এতো জোরে এলো, যে প্রথমে আমার মনে হচ্ছিলো সাইরেনটা আমার গাড়ির ভেতরেই কোথাও হেঁকে উঠেছে। আমাদের পাশ কাটিয়ে একটা পুলিশের মোটরসাইকেল সামনে এগিয়ে গেলো এবং হাত দেখিয়ে আমাদের থামতে নির্দেশ করলো।

- " ধুস্‌ শালা !! " স্বগতোক্তি করলাম আমি।

পুলিশের মোটরসাইকেলটা অন্ততঃ ১৩০ মাইল বেগে আমাদের পাশ কাটিয়ে গেছে। থামাতে তাই তার সময় লাগলো। শেষ পর্যন্ত পুলিশটি রাস্তার ধারে এক জায়গায় তার মোটরসাইকেলটা দাঁড় করাতে পারলো এবং আমিও তার পেছনেই গাড়ি থামালাম।

- " আমি জানতাম না এদের এতো দ্রুতগামী মোটরসাইকেল আছে। " আমার কথাটা নিজের কানেই খোঁড়া যুক্তির মতো শুনালো।

-" এই মোটরসাইকেলটার গতি আছে। " আমার সহযাত্রী বলে। " এটার ইঞ্জিন আপনারটার মতোই বিএমডব্লুর। রাস্তায় এরচেয়ে দ্রুতগতির বাইক আর নেই। ব্যাটারা তাহলে এখন এটাই ব্যবহার করে।"

পুলিশটি তার মোটরসাইকেল থেকে নেমে এসে ধীরেসুস্থে আমাদের দিকে এগুলো। তার চলাফেরায় কোন তাড়া দেখা গেলো না।  সে আমাদের যেখানে চেয়েছে, ঠিক সেখানেই পেয়েছে, ঠিক সেভাবেই পেয়েছে।

-" বিপদ মনে হচ্ছে। ব্যাটার ভাবগতিক সুবিধের লাগছে না। " আমি বলি।

-" অযথা বাড়তি কথা বলবেন না যেন, স্যার। " আমার সঙ্গী বলে। " চুপচাপ বসে থাকুন। "

ঠিক একজন জল্লাদের মতন পুলিশটি এগিয়ে এলো। ব্যাটার হালকা ভুঁড়ি রয়েছে, পরনের খাকি প্যান্ট একদম আঁটোসাঁটো হয়ে সেঁটে রয়েছে মাংসল ঊরুতে। হেলমেটের উপর রোদচশমা তুলে দেয়া, ফলে লালচে-মোটাসোটা মুখটা বেরিয়ে পড়েছে। আমরা স্কুলের দুষ্টু ছাত্রদের মতন অনড় বসে রইলাম।

-" ব্যাটাকে দেখেই মনে হচ্ছে, শালা একটা আস্ত শয়তান। " আমার যাত্রী ফিসফিস করে বললো।

আমার খোলা জানালার কাছে এসে পুলিশটি একহাত গাড়ির ছাদে রাখলো। বুকে আঁটা নামফলকে তার নাম লেখা - 'আবু বক্কর'।

- " কি সমস্যা আপনার ?"

- " কোন সমস্যা নেই, অফিসার। " আমি উত্তর দিই।

- " মনে হচ্ছে আপনার গাড়িতে কোন সন্তানসম্ভবা মহিলা আছেন, যাকে আপনি হাসপাতালে নিচ্ছেন ?"

- "না অফিসার। "

- " তবে নিশ্চয়ই আপনার বাড়িতে আগুন লেগেছে আর আপনি যাচ্ছেন তাদের উদ্ধার করতে ?"। আবু বক্কর ভাঁড়ের মতন বিদ্রুপাত্বক স্বরে টেনে টেনে বললো, " আমার বাড়িত্ আগুন লাগসে !! ‌"

নিজেকে শান্ত রাখলাম আমি।  " না অফিসার, আমার বাড়িতে কোন দুর্ঘটনা হয়নি। "

- " তাহলে, বলতেই হয় যে আপনি একটা ক্যাঁচালে পড়েছেন। আপনি কি জানেন এই রাস্তায় সর্বোচ্চ গতিসীমা কত?"

- " সত্তর মাইল।" জানাই আমি।

- " দয়া করে বলবেন, আপনি ঠিক কত মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছিলেন ?" আবু বক্কর বলে।

আমি শ্রাগ করি কেবল, কোন কথা বলি না। কিন্তু আবু বক্কর যখন কথা বলে, তখন তার জোর গলায় আমি চমকে না উঠে পারি না। " ঘণ্টায় ১২০ মাইল বেগে এই রাস্তায় কেউ গাড়ি চালায় !!" ঘেউঘেউ করে ওঠে লোকটা।" গতিসীমার প্রায় ৫০ মাইল উপরে এটা !!"

মাথা ঘুরিয়ে একদলা থুতু ফেলে আবু বক্কর, সেটা গিয়ে পড়ে আমার গাড়ির গায়ে। এরপরে সে ঘুরে দাঁড়িয়ে নজর দেয় আমার সহযাত্রীর দিকে। " আর তুমি কে? "

- " আমার পরিচিত কেউ নয়।" তাড়াতাড়ি বলি আমি। " রাস্তার ধারে সে নীলনগর যাবার জন্যে 'লিফট' চাইছিলো। "

- " আপনাকে জিজ্ঞেস করিনি। " ঠান্ডাস্বরে বলে আবু বক্কর। " উত্তরটা ওকেই দিতে দিন।"

- " আমার কি কোন গোস্তাকি হয়েছে স্যার ?", আমার সঙ্গী নিতান্ত মধুমাখা স্বরে জানতে চায়।

-" এখনো না। কিন্তু তোমার চেহারাসুরত আমার পছন্দ হচ্ছে না- ব্যস্‌।", পুলিশি জবাব আসে। " যাই হোক, তুমিও ঘটনার একজন সাক্ষী। তোমার কাছে পরে আসছি।" আবু বক্কর আমার দিকে ফিরে একটা হাত বাড়িয়ে দেয়। " ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখান। "

আমি তাকে আমার লাইসেন্স দেই। আবু বক্কর বাম বুকপকেট হতে তার টিকেটওলা বইটি বের করে। সতর্কতার সাথে আমার নাম-ঠিকানা টুকে নিয়ে সে আমায় লাইসেন্সটি ফেরত দেয়। গাড়ির সামনে গিয়ে নম্বরপ্লেটের সাথে সে লাইসেন্সের নম্বর মিলিয়ে কী সব লেখালেখি করে। এরপরে সে বইথেকে আমার জন্যে একটা টিকিট ছিঁড়ে দেয়। সবশেষে সে ছোট্ট বইটা আবার বুকপকেটে ঢুকিয়ে নেয়।

- " এবার তুমি। " আমার যাত্রীকে বলে আবু বক্কর, ঘুরে সে চলে যায় গাড়ির অপর পাশের জানালায়। ডান বুকপকেট থেকে সে বের করে আর একটা নোটবুক। " কি নাম? "

- " আমার নাম স্যার, মোতালেব মিয়া। "

- " ঠিকানা ? "

- " ১৫৬, কদমতলী, ইন্দ্রাকপুর। "  

- " পরিচয়পত্র বের করো। " পুলিশটি বলে।

আমার সঙ্গী নিজের পকেটগুলো হাতড়ে পরিচয়পত্র বের করে পুলিশটির হাতে দেয়। আবু বক্কর সেটার নাম-ঠিকানা মিলিয়ে দেখে। " কি কাজ করা হয় ?"।

- " আমি স্যার চুন-সুরকির যোগানদার।"

- " এঁ ?? কি করো ?? "

- " আমি স্যার, ঠিকাদারদের চুন-সুরকির চালান দেই। ওই যে মানে স্যার, বাড়িঘর বানাতে যেইসব লাগে..."

- " বুঝেছি, বুঝেছি। " আবু বক্কর সজোরে লিখে নিতে থাকে। " চু-ন... সু-র-কি-র ... চা-লা-ন-দা-র...। হ্যাঁ, কার সাথে কাজ করো তুমি ?"

- " আমি স্যার, এখন বেকার। কারো সাথেই নাই। "

আবু বক্কর এই সব কিছু লিখে নিয়ে তার নোটবুক বন্ধ করে। পকেটে ঢুকিয়ে নেয়। " থানায় গিয়েই আমি পুরোনো ফাইলপত্র দেখবো।" সে বলে।

-" কিন্তু আমার অপরাধটা তো স্যার বুঝতে পারলাম না। " ইদুঁরমুখো মানুষটা বলে।

- " তোমার চেহারা আমার ভালো লাগে নাই, সোজা হিসাব। আর মনে হচ্ছে তুমি একটা পুরোনো পাপী। " আবু বক্কর বলে। এরপরে সে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার আমার জানালায় আসে। " আর আপনি তো মনে হয় বুঝতে পেরেছেন, আপনার সামনে দুর্দিন।"

- " জ্বি, বক্কর সাহেব। " আমি বলি।

- " অচিরেই আমি ব্যবস্থা নেবো, আপনার এই চমৎকার গাড়িটি যাতে আপনি বেশ কিছুদিন চালাতে না পারেন। সবচেয়ে ভালো হয়- যদি আর কখনোই চালাতে না পারেন। সুপারিশ করবো, যাতে আপনাকে চালান দেয়া হয়।"

- " আপনি বলতে চাইছেন, জেলখানা ?", সতর্ক হয়ে বলি আমি। 

- " বিলকুল !! " মুচকি হেসে আবু বক্কর বলে। " একদমে গারদে পুরে রাখা হবে আপনাকে। অন্যান্য দাগী অপরাধীদের সাথে, আপনারা সবাই আইন ভেঙ্গে সমাজের শান্তি বিঘ্ন ঘটান। আপনাকে গারদে বন্দী দেখলে আমার চেয়ে বেশি খুশি কেউ হবে না। যান, দ্রুতই নোটিশ পেয়ে যাবেন।"

আবু বক্কর হেঁটে হেঁটে নিজের মোটরসাইকেলের কাছে ফিরে গেলো। সেটার স্টার্টারে দ্রুত কয়েকটা লাথি মারতেই ইঞ্জিনের গর্জন শোনা গেলো। বেশ তাড়াতাড়িই ব্যাটা চলে গেলো চোখের আড়ালে।

- " ধ্যত্তেরি," বললাম আমি। " হয়ে গেলো। ঠেলা সামলাও এবার। "

- " ব্যাটা একদম হাতেনাতে ধরে ফেলেছে। করবার কিছু ছিলো না।..." আমার সঙ্গী বলে। " তারপর স্যার, আপনি এখন কি করবেন ? ভেবেছেন কিছু।"

- " সোজা নীলনগর যাবো। আমার উকিলের সাথে কথা বলতে হবে। " বলি আমি।

- " আপনি কি স্যার সত্যিই বিশ্বাস করেছেন যে জোরে গাড়ি চালানোতে আপনাকে হাজতে পোরা হবে ?" লোকটা বলে। " খালি ট্রাফিক আইন ভাঙলে কাউকে জেলে ঢোকানো হয় না স্যার।"

- " তুমি ঠিক জানো ?" আমার সন্দেহ যায় না।

- " একশো ভাগ নিশ্চিত থাকুন স্যার। " সে বলে।

- " তাহলে তো ভালোই হয়। " গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলি আমি। মৃদু গর্জন করে গাড়িটা আবার চলতে শুরু করে।


খানিক নীরবতার পরে আমি বলি- " তারপর ?"

- " মানে, স্যার ?" আমার সঙ্গী বলে।

- " মানে তুমি না বলেছিলে, তুমি একজন শিল্পী ? তুমি তো দেখা যায় চুন-সুরকির ব্যবসা করো। মিথ্যে কথা বলেছিলে কেনো ?" বলি আমি।

- " আপনাকে মিথ্যে বলিনি। পুলিশের সামনে মিথ্যে বলেছি। ব্যাটাকে আমার সহ্য হয়নি।" লোকটা বলে।

- " কি কাজ করো তুমি তাহলে ?", সামনের রাস্তায় চোখ রেখে প্রশ্নটা করলাম আমি।

খানিক নীরবতার পরে লোকটা কথা বলে ওঠে। " নাহ, আপনার সাথে লুকোচুরি করে লাভ নেই আর। কৌতূহলে ফেটে যাচ্ছেন আপনি- স্যার। আমি কি কাজ করি, তাই জানতে চান, না ?... বেশ। বলছি।"

লোকটা তার পকেট থেকে একটা তামাকের বাক্স আর এক প্যাকেট সিগারেটের কাগজ বের করে নিয়ে একটা সিগারেট বানানো শুরু করে। চোখের কোণা দিয়ে আমি তাকে দেখতে থাকি এবং অবিশ্বাস্য এক গতিতে সে এই কঠিন কাজটা অনায়াসে করতে থাকে। পাঁচ সেকেন্ডের মাথায় সিগারেট প্রস্তুত হয়ে যায়। জিভ দিয়ে সে সিগারেটের কাগজটার প্রান্ত এঁটে নিয়ে সেটাকে ঠোঁটের মাঝে চালান দেয়। তারপর, যেন শুণ্য থেকে একটা লাইটার তার হাতে এনে নিয়ে তাতে আগুণ জ্বালিয়ে সিগারেট ধরায়। মুহুর্তে লাইটারটাও অদৃশ্য হয়ে যায়। সব মিলিয়ে আশ্চর্য ঘটনা বলতে হয়।

- " এতো তাড়াতাড়ি কাউকে সিগারেট বানাতে আমি জীবনেও দেখিনি!! " আমি বলি।

- " যাক, আপনি ঘটনাটা ধরতে পেরেছেন। " সিগারেটে একটা বড় টান দিয়ে সে বলে।

- " ধরতে পারবো না মানে !! দারুণ একটা জিনিস দেখলাম !!"

লোকটা ধীরে ধীরে গদিতে হেলান দিয়ে হাসে। সে প্রশংসায় খুশি হয়েছে বোঝা যায়। " জানতে চান, কীভাবে আমি এই কঠিন কাজটা করলাম ?"

- " অবশ্যই। বলো। "

- " কারণ, আমার হাতের এই যাদুকরী আঙুলগুলো। এই আঙুলগুলো, " চোখের সামনে হাতটা মেলে দিয়ে লোকটা বলে। " পৃথিবীর শ্রেষ্ট পিয়ানোবাদকের চেয়েও দ্রুততর। "

- " তুমি তাহলে পিয়ানো বাজাও ?"

- " বোকার মতন কথা বলবেন না। " সে বলে। " আমাকে দেখে মনে হয়, যে আমি পিয়ানো বাজাই ??"

আমি তার আঙুলগুলোর দিকে একনজর তাকাই। চমৎকার গড়ন, লম্বা, ছিপছিপে। দেখে মনে হয় দক্ষ কোন সার্জন বা ঘড়ি প্রস্তুতকারকের হাত।

- " আমার কাজ," সে বলে। " পিয়ানো বাজানোর চেয়ে একশোগুণ কঠিন। একটা ছাগলও পিয়ানো বাজাতে পারে। আজকাল যে কোনো বাসায় যান, দেখবেন পিচ্চিপিচ্চি ছেলেমেয়েরাও পিয়ানো বাজায়। কি, ঠিক বলেছি না ?"   

- " তা তো মোটামুটি ঠিকই। " আমি বলি।

- " অবশ্যই ঠিক। কিন্তু আমি যা পারি, কোটিখানেক লোকের মাঝে একজনও সেটা পারে না। বুঝলেন ?"

- " বাহ !!" মুগ্ধস্বরে বলি আমি। " তুমি তাহলে নিশ্চয়ই একজন যাদুকর।"

- " আমি ? যাদুকর ?", লোকটা আবারো রেগে ওঠে। " আমাকে দেখে কি মনে হয়, আমি ঐ পিচ্চি বাচ্চাদের জন্যে টুপির নিচ থেকে খরগোশ বের করে বেড়াই ??" 

- "তাহলে তুমি নিশ্চয়ই তাস খেলার সাথে জড়িত। লোকেদের তাস ভাগ করে দাও বা ঐ জাতীয় কিছু। " আমি বলি।

- " উফফ !! কাজ পেলেন না আর ?"

- " মাফ চাই, তুমি কি কাজ করো, সেটা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। " হাল ছেড়ে দেই আমি।

আমি তখন বেশ ধীরেই গাড়ি চালাচ্ছি। চল্লিশের উপরে তুলছিই না। নীলনগর আসতে দেরী নেই আর। হঠাৎই, আমার সঙ্গী একটা কালো চামড়ার বেল্ট উঁচিয়ে ধরে। " এটা চেনা চেনা লাগে স্যার ?"

- " এই, এটা তো আমার বেল্ট !! কোথায়... কোথায় পেলে তুমি এই জিনিস ??"

সে হেসে বেল্টটা শুণ্যে এপাশ ওপাশ দোলায়। " কোত্থেকে পেলাম ?? কোত্থেকে আবার, আপনার পরনের প্যান্ট থেকে !!"     

আমি হাত দিয়ে আমার প্যান্টের বেল্টটা ধরে দেখতে চাই। ওটা নেই !!

-" তুমি বলতে চাইছো আমি গাড়ি চালানোর সময়ই তুমি এটা খুলে নিয়েছো ?" হতভম্ব আমি বলি।

ধূর্ত চোখে আমাকে দেখতে দেখতে সে মাথা দোলায়।

- " অসম্ভব !!" আমি বলি। " তোমাকে আগে বেল্টের বাকলস খুলতে হবে, তারপর পুরো বেল্টটা টেনে খুলে নিতে হবে। আমি তো কিছু দেখতেই পেলাম না। আচ্ছা, না দেখলাম- আমার তো অনুভব করার কথা ছিলো। "

- " কিন্তু আপনি কিছুই দেখেননি, তাই না ??" সে বিজয়ীর হাসি হাসে। বেল্টটা নিজের কোলের উপর ফেলে দিয়ে সে কোত্থেকে একটা জুতোর ফিতে বের করে। " আর এটা সম্পর্কে কি বলবেন ?" ফিতেটা দোলাতে দোলাতে সে বলে।

- " এটা আবার কি ?" আমি বলি।

- " মনে হচ্ছে কারো জুতোয় একটা ফিতে কম আছে এখন। " হাসতে হাসতে সে বলে।

আমি চট করে নিজের জুতোর দিকে তাকাই। আশ্চর্য !

- " ঈশ্বর !! এটা কীভাবে করলে তুমি ?? তোমাকে তো এমন কি নিচু হতেও দেখলাম না !!" আমি বলি।

- " আপনি কিছুই দেখেন নি। এমনকি আমাকে একটা ইঞ্চিও নড়তে দেখেন নি। " গর্বের সুরে সে বলে। " কেন বলেন তো, স্যার ??"

- " কারণ... তোমার আশ্চর্য আঙুলগুলো !!"
   
- " একদম ঠিক কথা !" লোকটা উল্লাসে ফেটে পড়ে। " আপনি দেখি খুব তাড়াতাড়িই গোটা ব্যাপারটা বুঝে ফেলেছেন।" গদিতে হেলান দিয়ে নিজের তৈরী করা সিগারেট টানতে টানতে সে মন্তব্য করে। ধোঁয়ার একটা সরু রেখা গাড়ির জানালা দিয়ে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যেতে থাকে। দুই'দুইবার আমাকে বোকা বানিয়ে তাকে বেশ খুশি খুশি দেখায়। " দেরী হয়ে যাচ্ছে বোধহয়। কয়টা বাজে একটু বলবেন স্যার ?" সে বলে।

শার্টের হাতা উঠিয়ে আমি নিজের ঘড়ি দেখতে গিয়ে বিস্ময়ে আরেকবার হতবাক হই। " তুমিও এটাও সরিয়ে নিয়েছো !!"

মোতালেব মিয়া নিজের হাতের মুঠি থেকে আমার রিস্টওয়াচটা বের করে আনে। " দারুণ মাল, স্যার। আঠারো ক্যারাট সোনা। বেচতেও বেশি পরিশ্রম হবে না। ভালো জিনিসের খদ্দের স্যার বহু আছে। খুব তাড়াতাড়ি বিক্রি হয়ে যায়। "
   
- " যদি কিছু মনে না করো, ওটা ফেরত দাও। " আমি সতর্ক স্বরে বলি।

মোতালেব মিয়া নিজের সামনের বাক্সে ঘড়ি-বেল্ট-জুতোর ফিতে ঢুকিয়ে রাখে। " খামোখা উত্তেজিত হবেন না স্যার। আপনার কাছ থেকে কিছু আমি সরাবো না। আপনি আমায় লিফট দিয়েছেন। আমার সাথে ভালো ব্যবহার করেছেন। "

- "খুশি হলাম শুনে। " আমি বলি।    

খানিকপর আমি আবারো মুখ খুলি। " তাহলে, তুমি একজন পকেটমার ?"

- " শব্দটা আমার পছন্দ নয় স্যার। " লোকটা বলে। " এটা খুব অশ্লীল আর স্থূল। পকেটমারা একটা মোটা দাগের কাজ- আর নবিস লোকজনেরা এই ফালতু কাজটা করে। তারা পারলে অন্ধ মহিলার কাছ থেকেও টাকাপয়সা মেরে দেয়। "

- " তাহলে তুমি নিজেকে কি বলে পরিচয় দেবে ?"

- " আমি ? আমি একজন আঙ্গুলশিল্পী। আমি একজন পেশাদার আঙ্গুলশিল্পী। " সে দৃঢ়ভাবে- গর্বের সাথে এমনভাবে শব্দগুলো বলে, যেন সে বড় কোন হাসপাতালের একজন নামজাদা সার্জন কিংবা মহান কোন ধর্মগুরু।

- " এই শব্দ আমি আগে শুনিনি। " বলি আমি। " তুমিই কি এটার আবিষ্কর্তা ?"

- " অবশ্যই না। " সে উত্তর দেয়। " এই সম্মান কেবল পায় খুব উঁচুস্তরের পেশাদার লোকজন। তাঁতশিল্পী বা যন্ত্রশিল্পী যেমন- তেমনই আঙ্গুলশিল্পীও একজন শিল্পী। আঙ্গুলের। "

- " এটা নিশ্চয়ই খুব রোমাঞ্চকর পেশা।"    -

- " এটা একটা দুর্দান্ত পেশা !! এটা খুবই উপভোগ্য। " সে বলে।

- " তুমি তাহলে এজন্যেই ঘোড়দৌড়ের মাঠে যাও ?" প্রশ্ন করি আমি।

- " ঘোড়দৌড়ের মাঠে কাজ করা সহজ। " সে বলে। " আপনাকে খালি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেয়াল করতে হবে যে কারা ভাগ্যবান আর বেশ মোটা পয়সা কামাচ্ছে। শেষে তারা যখন লাইন ধরে দাঁড়িয়ে পয়সা তুলবে- তখন খালি আপনাকে তাদের পেছনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে আর কাজ সেরে নিতে হবে। আমাকে ভুল বুঝবেন না কিন্তু স্যার, আমি গরীব বা সর্বস্ব হারিয়ে ফেলা লোকেদের কাছ থেকে কখনো কিছু নেই না। আমি এমন লোকেদের কাছ থেকে নেই, যাদের থেকে নিলে তাদের কোন ক্ষতি নেই। ধনীলোকেরা আর যারা মোটা অংকের পয়সা জেতে- তাদের কাছ থেকেই কেবল নেই।"

- " বাহ ! ভালো তো। কেউ কখনো তোমায় ধরতে পারেনি ?" প্রশ্ন করি আমি। 

- " ধরবে !! আমাকে !!" মোতালেব মিয়া যেন আহত হলো। " আমি ধরা পড়বো !! পকেটমারেরাই ধরা পড়তে
পারে, আঙ্গুলশিল্পীরা কখনোই ধরা পড়ে না। শুনুন স্যার, আপনার নকল দাঁতের পাটি পর্যন্ত খুলে নিয়ে আসতে পারি আমি- আপনি কিছু টেরই পাবেন না। "

- " আমার কোন নকল দাঁত নেই।"

- " জানি।" সে বলে। " থাকলে এতক্ষণে ওটাও আমি খুলে নিয়ে আসতাম।"

তার কথা আমি বিশ্বাস করলাম। ঐ লম্বা আঙ্গুলগুলো চাইলে অলৌকিক কোনকিছুও করতে পারে, বুঝে গেছি আমি। বেশ কিছুক্ষণ কোন কথা ছাড়াই থাকলাম আমরা।

- " এবার কিন্তু ঐ পুলিশ অফিসার তোমার বাড়ির ঠিকানা পেয়ে গেছে। যে কোন সময় হানা দিতে পারে সেখানে। তোমার ভয় লাগছে না ?" আমি বলি। 

- " কেউই আমার বাড়িতে হানা দিচ্ছে না। " সে বলে।   

- " নাম-ঠিকানা যখন পেয়ে গেছে তখন একদিন না একদিন ঠিকই তারা তোমার ওখানে যাবে। "

আমার সঙ্গী ধূর্ত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলে- " জীবনে এমন কোন পুলিশ আমি দেখিনি স্যার, যার স্মরণশক্তি ভালো।"

- " স্মরণশক্তির কি আছে ?" বলি আমি। " তোমার বিস্তারিত সে লিখেই নিয়ে গেছে। তুমি আর আমি দুজনেই ফেঁসেছি।"

সহযাত্রী কোন উত্তর দিলো না। খানিকপরে কেমন এক সুরে সে বলে উঠলো," গাড়িটা একটু রাস্তার একপাশে থামাবেন, স্যার ? একটু সিগারেট ধরাতাম আর আগুণ জ্বালাতাম ?"

তার বলার ভঙ্গীতে এমন কিছু একটা ছিলো, যাতে আমি রাস্তার একপাশে গাড়ি না থামিয়ে পারলাম না। এরপর আমি ফিরে চাইলাম। সবিস্ময়ে দেখলাম, আমার বাম পাশে বসা মোতালেব মিয়ার বাড়িয়ে দেয়া দুই হাতের একটাতে শোভা পাচ্ছে আমার প্যান্টের ডান পকেটে রাখা লাইটার। আর অন্য হাতে আবু বক্করের নোটবুকদ্বয়।


####
[ ইংরেজ ছোটগল্পকার রোয়াল্ড দালের গল্পের আমি দারুণ ভক্ত। ভাষার দুর্বোধ্যতা নেই, উপদেশের আধিক্য নেই। সরলতম ছোট ছোট বাক্যে রচিত দালের গল্পগুলো আদতেই কেবল 'গল্প', যার মূল আকর্ষণ হচ্ছে ভেতরের কাহিনী আর তার মোচড়। উপরের গল্পটি দালের 'দ্যা হিচহাইকার' গল্পের ছায়া অবলম্বনে লেখা। ]

1 টি মন্তব্য:

  1. আপনাকে ধন্যবাদ রোয়াল্ড দালের সঙ্গে পরিচয় করে দেওয়ার জন্য

    http://monirulislam2010.wordpress.com/

    উত্তরমুছুন