শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১০

শিল্পী


" This robust and true artist, with the brutal hands of a giant, with the nerves of a hysterical woman, with the soul of a mystic, so original and... so alone. "
  - Albert Aurrier on Vincent Van Gogh

ইব্রাহিম জোয়ারদার ছবি আঁকেন। সংবাদপত্রে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির তথ্য ফাঁস- যানজটে আটক গাড়ির জানালায় ভিনদেশি রাষ্ট্রপ্রধাণের আত্নজীবনী বিক্রেতার হাতে ঘামের গন্ধ- সিনেমার রঙিন পোস্টার- মাধ্যমিক পাঠ্যসূচিতে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'র অনুপস্থিতি সত্বেও ইব্রাহিম জোয়ারদার ছবি আঁকেন। ক্যানভাসে পেশীবহুল, স্বাস্থ্যবান, রোদেপোড়া মানুষ আসে- নগরের পলকে গতিশীল জীবন আসে- মানুষের ফরমায়েশী মুখমন্ডল আসে। প্রদর্শনী লন্ডনের লেইস্টার গ্যালারীতে চলে- চলে ধানমণ্ডির শোভিত গ্যালারীতেও। সমালোচকেরা বলেন, ইব্রাহিম জোয়ারদার বড় জোরে তুলি ঘষেন- রঙের প্রাবল্যে তার শিল্পকর্ম ফভিজম ধারায় পড়ে। ইব্রাহিম জোয়ারদার হেনরি মাতিসকেই গুরু মানেন, মাতিস স্বয়ং ফভিজমের প্রবর্তক দলের সদস্য- অতএব ফভিজম ধারার ফসিল তার শিল্পে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর নয়। অথচ শিল্পী নিজে সেটি স্বীকার করেন না, বরং দাবি করেন, পিটার পল রুবেন্সের ধারার অনুসারী স্বনামধন্য রেনোঁয়ার আঁকা ছবির সাথে তার অঙ্কিত ছবির সাদৃশ্য রয়েছে। শিল্পীর গলার স্বরে আবছা অহমিকা, প্রগাঢ় আত্নবিশ্বাস। শিল্পীর হাতে তুলি।


শিল্পী কেন ছবি আঁকেন। ও শিল্পী, আপনি কী কারণে ছবি আঁকেন ?? ... ইব্রাহিম জোয়ারদার এই প্রশ্নে বিব্রত হন না ইদানীং, বিরক্ত বরং। কাঠুরে গাছ কাটে, দুয়োরাণী দুঃখী হয়, মানুষ সঙ্গম করে, ঈশ্বরে পৃথিবী বানায়- ছবি না এঁকে শিল্পীর গত্যন্তর কোথায় ?? অতএব শিল্পী ছবি আঁকেন। তাহলে ঐ যে কী সব শোনা যায়; প্রলেতারিয়েত মানুষের বিমূর্ত হতাশা- মণ্ডের ক্যানভাসে বন্দী ঘড়ির টিকটিক- সোনার নৌকায় ধান তুলে দেবার পূর্বেই অমরত্বের নিশ্চিতকরণ এইসব; লোকে তবে যা যা বলে সকলি ভুল, মিছে, অসত্য বটে??... শিল্পী করেন এ কথার প্রতিবাদ। না না; শিল্পী তো সময়কে ধরে রাখতেই চান ঠিক ঠিক- মানুষের যা গল্প, সেটিকে রঙের ভাষায় লেখাও শিল্পীর কাজই বটে। নইলে আর শিল্প, যেটাকে লোকে বলে, কী ??... তাহলে ঠিক আছে। চলুক। যেমন চলছে। শিল্পীও ছবিই আঁকুন।

তবু একদিন ভোর উঠে উঠে- রাত ঘুমঘুম - বসতবাড়ির দুয়ারে দ্বাররক্ষক সবুর মিয়ার সম্ভাব্য অনুপস্থিতি নিয়ে নীচু স্বরে স্বগোতক্তি; এবং ইব্রাহিম জোয়ারদারের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পাওয়া যায়। তারা দুইজন। প্রথমজন কথা বলে না, ছিটের কাপড়ের শার্ট। কথা বলে দ্বিতীয়জন, চোস্ত পায়জামা- এলো লম্বা চুল- অগোছালো জুলফি- চশমা চোখে। দ্বিতীয়জন মুখরা রমণীর মত উঁচু স্বরে কথা বলে, প্রথমজন বয়সে ভারী- দেয়ালে ঝোলানো পেইন্টিং দেখে- ফভিজমের প্রাবল্য বিচারে আনমনে বিড়বিড় করে বোধ করি। তারা শিল্পীর জন্যে ফরমায়েশ নিয়ে এসেছিলেন- তারা দুইজন কাজ সাধেন। উঁচু স্বরে এইটুকু বলে বক্তা, অগোছালো জুলফির, স্বর নামিয়ে আনে। বসার ঘরের এককোণে বসে পড়ে সকলে। বয়স্ক অবাচাল লোকটি এবার নীচু স্বরে বলে সেই রহস্যময় কাজের কথা; পারিশ্রমিক হিসেবে নাকি দেয়া হবে এমন কিছু- যা ব্যাখ্যাতীত। পৃথিবীর সুন্দরতম ছবির কথাটি উচ্চারণ করে বয়স্ক লোকটি নিঃশব্দ হয়ে যায়, ঘড়ি টিক টিক করে চলে, চশমা চোখের এলো লম্বা চুল তখন পারিশ্রমিকের কথা বলে। ইব্রাহিম জোয়ারদার কথা বলার অবকাশ পান না; তার পূর্বেই তারা দুইজন বেরিয়ে যান। এভাবেই কোন এক ভোর উঠে উঠে-রাত ঘুমঘুম সকালে শিল্পীর নতুন কাজের সূচনা হবার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, দ্বাররক্ষক সবুর মিয়ার অনুপস্থিতি শিল্পীকে আর ভাবায় না।


ইব্রাহিম জোয়ারদার তবু ভাবিত হন। এ কি সম্ভব আদৌ হবে তার পক্ষে ?? শিল্পী তিনি, ছবি আঁকেন- এমন ছবি- যা প্রাণের সঞ্চার করে জলেতে, আলোয়, ছোট্ট চড়ুই পাখিতেও। প্রমাণ দেখতে চাইলে পাঠক অথবা ছবির সমালোচকেদের ইকবাল রোডের ইট রঙের ঐ দালানে কিংবা মিন্টু রোডের ডাকবাংলো আদলের ঐ প্রাসাদে যেতে অনুরোধ করি। ইকবাল রোডে আজকাল পানির অভাব হয় না নাকি, ইব্রাহিম জোয়ারদারের আঁকা পাহাড়ি ঝর্ণাটির স্রোত নাকি শুধু ইলিয়াস আলীর বাসা নয়- জল সংকটে ভুগতে থাকা সমস্ত ইকবাল রোড বাসিন্দার জলের অভাব মেটায়। মিন্টু রোডে সংবাদপত্রিকার অবাক সংবাদ কলামের অপেশাদার খবর সংগ্রাহকেরা জমায়েত করে আজকাল, ছোট্ট দুটো চড়ুই পাখি সকালের রোদে- দুপুরের মেঘে-বিকালের বৃষ্টিতে ডানা ঝাঁকায় নাকি; ক্যানভাস থেকে নেমে এসে। আপনি বিশ্বাস করবেন না, জানি- লোকেরা তবু বিশ্বাস করে। লোকেরা বিশ্বাস করে এবং অপরিচিত লোকেরা ইব্রাহিম জোয়ারদারের কাছে ফরমায়েশ বহন করে আনে; যার পুরস্কার বা পারিশ্রমিক ব্যাখাতীত।


ইব্রাহিম জোয়ারদার তুলির আঁচড়ে পাহাড়ি ঝর্ণায় পানির স্রোত বইয়ে দেন, ইব্রাহিম জোয়ারদার ইজেল থেকে হোক পাখি-তবু চড়ুই বারান্দার রোদে নামিয়ে আনেন এবং ইব্রাহিম জোয়ারদার গভীর রাতে ঘুমঘুম শহরে নির্ঘুম পায়চারি করেন। কে, কবে, কখন - আদৌ কখনো- পেরেছিলেন নাকি, সেটা তিনি বিস্মৃত হন। গুরু হেনরি মাতিস পারেন নি, পল রুবেন্সও নয়। দা ভিঞ্চি পেরেছিলেন বলে ইতিহাস মনে করতে পারে না। দালি, রেঁনোয়া, এডগার দেগা মুখ খারাপ করায়। রাফায়েল কি ক্যামিল পিসারো ?? ... না বোধক। সেরা ভাস্করেরাও কেউ পেরেছিলেন কি ?? জেমস আল ফ্রেসার নয়, হেনরি মুর নন। শিল্পী জেনে আশ্চর্য হন আলেহান্দ্রো আলগার্দি কী আন্তোনিও ক্যাভানোও পারেন নাই। সবার সেরা মাইকেল এঞ্জেলোও না। কেউ জানে না। কেউ পারে নাই। ইব্রাহিম জোয়ারদার পারবেন অথবা পারবেন না সে বিষয়ে সন্দেহ থাকে কিন্তু রাত গেলে ভোর আসে নিঃসন্দেহে। আমরা ভোরে শিল্পীর মাঝে তাগিদ দেখতে পাই।


ইব্রাহিম জোয়ারদার ছবি আঁকতে বসলে সকাল হয়। শিল্পীর হাতে তুলি, হাতে জোর নেই। তুলিতে রঙ থাকে, শিল্পীর আত্মবিশ্বাস নেই। পৃথিবীর সুন্দরতম ছবি আঁকতে বসে শিল্পী বারংবার বিভ্রান্ত এবং অসফল। ছবি আঁকা হয়। সেটি হয়তো সুন্দর ছবি হয়- হয় সুন্দরতর ছবি- কিন্তু পৃথিবীর সুন্দরতম ছবিটি অধরাই থেকে যায় প্রতিবার। ইব্রাহিম জোয়ারদারের কাছে অপরিচিত দুইজন কাজ নিয়ে আসে, কাজ শেষে তাকে নাকি দেয়া হবে রহস্যময় কোনো পারিশ্রমিক। সেই পুরষ্কার কী হবে- মেথুশেলার নয়শো বছরের জীবন, প্যান্ডোরার বাক্স অথবা পামীর মালভূমি হতে হাত বাড়ানো উচ্চতার এক টুকরো তুলো মেঘ ??... এ বিষয়ে শিল্পীর কোন কিছু অজানা, যেমন অজানা থাকে পৃথিবীর সুন্দরতম ছবি। শিল্পী অতএব একটি সুন্দর ছবি আঁকবার চেষ্টা করেন মাত্র- কে জানে, হয়তো সেটা অলৌকিকে শ্রেষ্ঠতম কিছু হয়ে উঠবে বলে তার আশা থাকে। কিন্তু এতে হয় না কিছু তেমন, বরং শেষ রাতে বারংবার দুইজন অজ্ঞাত লোক ফিরে ফিরে আসে ছবির প্রত্যাশায়। এভাবে একেকটা ভোর আসে। এইভাবে ইব্রাহিম জোয়ারদার ছবি আঁকায় ডুবে যায়।


এরপর আমন্ত্রণপত্র আসে। বরাবর- শিল্পী ইব্রাহিম জোয়ারদার, হতে- লুইজিয়ানা স্টেট অফ মডার্ন আর্ট অথবা কলোরাডো ডেনভার আর্ট মিউজিয়াম কিংবা ঐ লুইজিয়ানা স্টেট অফ মডার্ন আর্ট হতেই। শিল্পী অপারগতা প্রকাশ করেন যেতে। ভয়ে নয়, অর্থলোভে নয়, সম্ভাব্য যাত্রাক্লান্তির কারণে নয়- অন্য কোন কারণে। এমন নয় যে শিল্পীর ভয় নেই, এমন নয় যে তার অর্থলোভ কিংবা অর্থের তাগিদ নেই। এমন হয়, কারণ ভোর হতে না হতে ছিটের কাপড়ের শার্ট আর অগোছালো জুলফির দুইজন আসে। তাদের আসতে হয়। "ও ইব্রাহিম জোয়ারদার, ছবি এঁকেছেন ?? ... ছবি  নিতে আমরা ফিরে আসবো কিন্তু। "... শিল্পী তাই চেষ্টা করে যান।...


অতঃপর মুখমন্ডলের ফরমায়েশ আসে। তৈলাক্ত মুখ- উঁচু চিবুক; ঠিকঠাক আঁকা চাই। ইব্রাহিম জোয়ারদার কিন্তু ফরমায়েশ নেন না এখন। সময় নেই, সময় নেই, কাজটা শেষ করা চাই তাঁর। ফরমায়েশদাতা অনুরক্ত হন না। এইসব কথা টুকটাক ছড়ায়। সমালোচকেরা বলে, অপ্রতিভাবান পরিশ্রমী শিল্পী ইব্রাহিম জোয়ারদার হয়তো নিজের কাজের ধারায় পরিবর্তন আনতে চাইছেন। অথবা হয়তো দেরীতে হলেও ফভিজম অনুগামিতা ছেড়ে তিনি নিজের স্বকীয়তা খুঁজে পাচ্ছেন। কিন্তু এইসব কথায় ইব্রাহিম জোয়ারদার কান দেন না কিন্তু। তিনি জানেন রাত ঘুমঘুম বেলায় তার কাছে নীচু স্বরে কথা বলা আর মুখরা রমণীর স্বরে কথা বলা দুইজন লোক আসবেই। "ও শিল্পী, এখনো ছবি আঁকা হয় নাই আপনার ?? ... আঁকবেন কিন্তু, ঠিকঠাক হওয়া চাই সব। "...


এরপরে যা হয়, আপনারাও তা জানেন। প্রথমে গুজব, এরপরে বিশ্বাসযোগ্যতা। লোকজনে সকলে সেটাকে তাই মেনেও নিতে শুরু করে। নাকি প্রখ্যাত শিল্পী ইব্রাহিম জোয়ারদার ছবি আঁকা বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি আর কোন প্রদর্শনীতে যোগ দেন না। অথবা তিনি এখন আর কাজ করেন না। কিংবা তার হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অতএব ভীড়- সরকারী কর্মকর্তা কি বেসরকারী দূরদর্শন- রিডার্স ডাইজেস্ট কি দিনবদলের স্থানীয় পত্রিকা। কোন জবাব আসে না। লোকজন কিছুদিন অপেক্ষা করে, উঁকি মারে, তাদের সারাদিনই এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে কী না জিজ্ঞেস করে কড়া গলায় কৈফিয়ত চায় কেউ কেউ। দরজা খোলে না। অথবা দরজা খোলে কেবল গভীর রাতে। বয়স্ক অবাচাল আর চোস্ত পায়জামার দুইজন দরজায় এসে দাঁড়ায়। সবুর মিয়া কখনোই, কোনো এক অব্যাখনীয় কারণে, এদের আটকায় না। অথচ তারা হয়তো তার সামনে দিয়েই এসে দরজায় দাঁড়িয়ে যায়। "ইব্রাহিম সাহেব, ছবি আঁকা হইসে আপনার ?? ... একটু দেখেন না ভাই, তাড়াতাড়ি করতে পারেন কি না। ছবিটার জন্যে অপেক্ষা করে আছে সবাই..."।


এই সমস্ত ভোররাতগুলোর  মাঝেই একদিন, যেটি আসলে একরাত, মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর ইব্রাহিম জোয়ারদার বুঝে ওঠেন- তিনি আসলে এরকম ছবি- ফরমায়েশের সুন্দরতম ছবিটি- আঁকতে পারবেন না কখনো। এটা প্রতিভা কি পরিশ্রমের জন্যে নয়, তার চেয়ে শতঅযুত গুণ প্রতিভাবান কি পরিশ্রমী কেউও কখনো এ ধরণের কিছু আঁকতে পারেন নি। ইতিহাসে অন্ততঃ নেই। তবে আছে কোথাও। ইব্রাহিম জোয়ারদার জানেন অথবা তার মনে পড়ে কীভাবে এরকম একটি ছবি আঁকা হয়। নিশ্চিত হতে ইব্রাহিম জোয়ারদার গভীর রাতেই পড়বার ঘরে যান। খোঁজেন। বই পড়েন, বইয়ে খুঁজে পান। এইসবের মাঝেই শিল্পী নিশ্চিত হয়ে যান। ডোরিয়ান গ্রে'র ছবি আঁকা সম্ভব হয়তো। মৃত ছবিকে জীবন ফিরিয়ে দেয়াও সম্ভব। কিন্তু সম্ভব নয় পুনর্বার এমন একটি ছবির জন্ম দেওয়া। এ সাধ্যতীত। পৃথিবীর সুন্দরতম ছবি আঁকবার চেষ্টায় তিনি বামন রয়ে যাবেন, এ সত্য অনুধাবনে শিল্পী আর চন্দ্রমুখী হাত বাড়ান নি। পড়বার ঘরে ইব্রাহিম জোয়ারদার তাই নির্ঘুম এবং ভোর হয়ে আসে।


এরপরে যথারীতি তারা আসে। তারা দুইজন। প্রথমজন কথা বলে না, ছিটের কাপড়ের শার্ট। কথা বলে দ্বিতীয়জন, চোস্ত পায়জামা- এলো লম্বা চুল- অগোছালো জুলফি- চশমা চোখে। দ্বিতীয়জন মুখরা রমণীর মত উঁচু স্বরে কথা বলে, প্রথমজন বয়সে ভারী- দেয়ালে ঝোলানো পেইন্টিং দেখে- ফভিজমের প্রাবল্য বিচারে আনমনে বিড়বিড় করে বোধ করি। ইব্রাহিম জোয়ারদার কথা না বাড়িয়ে কেবল জানিয়ে দেন, এ ছবি আঁকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। পৃথিবীর সুন্দরতম ছবিটি আঁকতে তিনি অপারগ থেকে যান। তার উত্তরে লোকদ্বয় কিছুটা বিস্মিত, বিভ্রান্ত খানিক, অনেকটা হতাশ হয়ে যায়। অপেক্ষাকৃত অল্পবয়স্ক জন নিশ্চুপ হয়- হয়তো স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায়, তবে প্রশ্ন করেন বয়স্ক জন। সেটা অন্তিম প্রশ্ন হয়, না হয়ে উপায় থাকে না।


- "আপনি, ইব্রাহিম জোয়ারদার, যুগশ্রেষ্ঠ শিল্পী, পৃথিবীখ্যাত চিত্রকলা বিশারদ; সমালোচকেরা কথা কয় আপনার বৈচিত্র্য নিয়ে, ছবির মাঝের জড় কিংবা জীব অথবা এই উভয়ের মাঝেই প্রাণপ্রতিষ্ঠা করতে পারেন আপনি, আপনার চিত্রকর্ম ঠাঁই পায় শতাব্দীসেরা চিত্রকর্মের সমারোহের ভিনদেশি গ্যালারীতে- সেই আপনি, শিল্পী ইব্রাহিম জোয়ারদার, পৃথিবীর সুন্দরতম ছবিটি আঁকতে পারেন না ?? ... কেন ?? কী কারণ ??"


শিল্পী প্রশ্নের চোখে চোখ রেখে বলেন, "কারণ সুন্দরতম ছবি দ্বিতীয়বার আঁকা যায় না। আমার কাছে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের সবুজ ক্যানভাস নাই। আমার কাছে এতো গাঢ় লাল রঙ নাই..."

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন