বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০১০

আফ্রিকাতে, বিশ্ব কাঁপে

হুমায়ূন আহমেদের কোন একটা লেখাতে ঘটনাটা পড়েছিলাম। খুঁটিনাটি মনে নেই, মনে আছে মূল অংশটা।
লেখক হুমায়ূন গিয়েছেন নেত্রকোণায়- কোন এক নাটকের শুটিং করতে। এক পর্যায়ে শুটিং বন্ধ করতে হলো। কেননা স্থানীয় লোকেরা বিরাট এক মিছিল বের করেছে। সেই মিছিল একটু পরপর গগণবিদারী হাঁক দিচ্ছে, " ম্যারাডোনাকে বিশ্বকাপ  ... ফিরিয়ে দাও, ফিরিয়ে দাও !!! "
কৌতূহলী হুমায়ূন মিছিলের একজনের কাছে জানতে চাইলেন, "ভাই, ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ জিততে পারেন নাই- এটা একটা আন্তর্জাতিক ইস্যু। বাংলাদেশের মানুষ এইটা নিয়ে মিছিল করলে কী কোন লাভ হবে ??"
... উত্তর এলো- " আমরা নেত্রকোণার মানুষ। লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করণ আমাগো কাম না। আমাগো কাম ম্যারাডোনার লাইগ্যা মিছিল করা !!! "




চার বছর আগের কথা। উপরতলার চাচীকে আক্ষেপ করতে শুনলাম। চাচা নাকি গতকাল রাতে ভাত খান নাই, সকালে নাস্তা না করেই অফিসে গেছেন। কারণ কিছু না, ব্রাজিল গতরাতে ফ্রান্সের কাছে হেরে গিয়ে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে।


মনে পড়ে যাচ্ছে, ২০০২ সালে খবরের কাগজের ভেতরের দিকের অংশের একটি মফস্বল সংবাদ। তের বছরের কিশোর আত্মহত্যা করেছে বাবার উপর অভিমান করে, বাবা ছেলেকে গালমন্দ করেছিলেন তুর্কি ফুটবলার উমিত দাভালার অনুকরণে মোহিকান ছাঁটে চুল কাটায়।


চাঁদা তুলে বুয়েটের হলে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের পতাকা টানানোর সিদ্ধান্ত হলো চোখের সামনেই। ঠাস বুনোটের ঢাকা শহরের আকাশছোঁয়া হাইরাইজ এপার্টমেন্টগুলোর ছাদ থেকে আজকাল যানজটের সাথে সাথে দেখা যায় নানা রঙের পতাকা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড-ফ্রান্স-জার্মানী-ইতালী। নীলক্ষেতের মোড়ে প্রতিবন্ধী যে ভিক্ষুক গড়াগড়ি দিচ্ছে ফুটপাথে, পতাকা শোভা পাচ্ছে তার সাথেও। জরিপে এসেছে, বিশ্বের মোট পুরুষ-মানুষের শতকরা ৮০ ভাগের বর্তমান প্রধান আলোচ্য বিষয় একটাই। মহিলারা পিছিয়ে নেই এখানেও। অলিভার নিউভিল, পাওলো মালদিনি, ডেভিড বেকহামের পর এখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর কাকা'র ক্রেজ।


... বললে বিশ্বাস করবেন, সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে যুক্তিবাদী প্রাণী মানুষের এইসমস্ত কাজকর্মের অন্তরালে রয়েছে ৬৯ সেমি পরিধি আর ৪৪০ গ্রাম ওজনের একটা চর্ম গোলক মাত্র ??

 বিশ্বাস করছি। কারণ, ৬৫০ কোটি মানুষের ভারে পিষ্ট পৃথিবীতে সর্বজনবোধ্য একমাত্র যে ভাষাটি- সেই 'ফুটবল' নামের ভাষায় অচিরেই পর্দা তুলতে যাচ্ছে 'দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ', রহস্যের মহাদেশ আফ্রিকায় !!!  



বিশ্বকাপের গ্রুপঃ

এবারের দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপে দেখা যাবে সবচেয়ে প্রচলিত ৩২ দলের ফরম্যাটটাকেই। আটটি গ্রুপে বিভক্ত দলগুলোর মাঝ থেকে সেরা ১৬ টিকে বেছে নিয়ে শুরু হবে নকআউট পর্ব। এখান থেকে হারলেই বিদায়। এরপর ক্রমান্বয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমি ফাইনাল এবং ফাইনাল।...

প্রথমে আসুন, একটু চোখ বুলিয়ে নেই কোন গ্রুপে রয়েছে কোন দেশ। কাদের উত্তরণের সম্ভাবনা রয়েছে 'করুন অথবা মরুণ' পর্বে।


গ্রুপ এ = দক্ষিণ আফ্রিকা, উরুগুয়ে, মেক্সিকো, ফ্রান্স। [ফ্রান্সের পরবর্তী পর্বে যাওয়া দেখা যাচ্ছে একরকম নিশ্চিত। দ্বিতীয় স্থানের জন্যে উরুগুয়ে এবং মেক্সিকোর লড়াই হবে তুমুল। মেক্সিকোকে একটু এগিয়েই রাখছি। তবে সকল হিসাব মিথ্যা করে চমক দেখাতে পারে স্বাগতিক দঃ আফ্রিকাও।]

গ্রুপ বি = আর্জেন্টিনা, নাইজেরিয়া, দঃকোরিয়া, গ্রীস। [আর্জেন্টিনা এবং নাইজেরিয়াই মূলত পরের পর্বে যাওয়ার দাবীদার। দঃকোরিয়াকে চমক দেখাতে হলে ভালো পরিশ্রম করতে হবে।]

গ্রুপ সি = ইংল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, আলজেরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। [ইংল্যান্ড এই গ্রুপে পরিষ্কার ফেভারিট। দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে থাকবে মূলতঃ আমেরিকানেরা।]

গ্রুপ ডি = জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সার্বিয়া, ঘানা। [শক্তির বিচারে জার্মানি পরিষ্কার এগিয়ে। অবশিষ্ট তিনটি দলের যে কেউই পরের রাউন্ডে যাবার সামর্থ্য রাখে।]

গ্রুপ ই = নেদারল্যান্ড, জাপান, ক্যামেরুন, ডেনমার্ক। [অঘটন না ঘটলে নেদারল্যান্ড এবং ক্যামেরুন যাচ্ছে পরবর্তী পর্যায়ে।]

গ্রুপ এফ = ইতালি, প্যারাগুয়ে, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া। [ইতালি এবং প্যারাগুয়ের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া নিশ্চিত প্রায়।]

গ্রুপ জি = ব্রাজিল, পর্তুগাল, আইভরী কোস্ট, উত্তর কোরিয়া। [উত্তর কোরিয়া বাদে বাকি তিনটি দলই বিশ্ব ফুটবলে সমীহ জাগানো। এই বিশ্বকাপের 'গ্রুপ অফ ডেথ' বলা হচ্ছে এই গ্রুপটাকেই। এই গ্রুপ নিয়ে তাই কোন অনুমান না করাই শ্রেয় !!]

গ্রুপ এইচ = স্পেন, চিলি, হন্ডুরাস, সুইজারল্যান্ড। [সবকিছু ছক কেটে চললে স্পেন এবং চিলি যাচ্ছে পরের রাউন্ডে।]



বিশ্বকাপের দাবিদারঃ

দিস্তা দিস্তা কাগজ উড়িয়ে পৃথিবীর বাঘা বাঘা সমালোচক-সাংবাদিক-বিশ্লেষকেরা প্রতিদিন খুঁজে বেড়াচ্ছেন ২০১০ সালের দঃআফ্রিকা বিশ্বকাপের দাবিদারকে।

বিশ্বকাপের স্পষ্টঃ ফেভারিট, স্পেন। বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন এই দলটির কাগজকলমে বিশ্বকাপ না জেতার কোন কারণই নেই। স্ট্রাইকার, মিডফিল্ডার, ডিফেন্ডার মায় গোলকীপার পর্যন্ত সবগুলো পজিশনেই স্পেনের রয়েছে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়েরা। কোন এক কোচ তো মন্তব্যই করে বসলেন কিছুদিন আগে, 'স্পেন এবার দুটো স্কোয়াড নামাতে পারে বিশ্বকাপে, এবং দুটো স্কোয়াডই হবে বিশ্বকাপের দাবিদার।' কাজেই দীর্ঘ ঐতিহ্যের ফুটবল ইতিহাস নিয়েও কখনো বিশ্বকাপ না জেতা স্প্যানিয়ার্ডেরা এবার আশায় বুক বাঁধতেই পারেন। প্রতিপক্ষ কেবল ইতিহাস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে প্রায় প্রতিবারই হট ফেভারিট দলটিকে বাড়ি ফিরতে হয়েছে শূন্য হাতে !!! কাজেই ইতিহাসের এই অংশটুকু ভুল হলেই এবার বিশ্বকাপ স্পেনের হবে- এবং সত্যিকারের ফুটবল সমর্থকেরা নিশ্চয় এতে তৃপ্তি পাবেন...

বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই অন্যতম ফেভারিট দল থাকে ব্রাজিল, ব্যতিক্রম হয় নি এবারো। ৯৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কার্লোস দুঙ্গাকে কোচ করে ব্রাজিলিয়ানেরা স্বপ্ন দেখছে হেক্সা শিরোপা জয়ের। জোগো বনিতো নামের শৈল্পিক ঘরানার ফুটবল থেকে দূরে সরে এসে দুঙ্গা বানিয়েছেন একটা পরিশ্রমী দল, যাদের সকলেই কর্মঠ এবং কার্যকারিতায় যথেষ্ট দক্ষ। কনফেডারেশন্স কাপ এবং কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নেরা তাই বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার।

৮৬ বিশ্বকাপের পরে কাপ জয়ের আশা করছে এবার আর্জেন্টিনাও। আর্জেন্টাইনদের ফুটবল দেবতা ডিয়েগো ম্যারাডোনা এই দলের কোচ। চিরকালীন পাগলামীকে সঙ্গে করে দল নির্বাচনে মূলতঃ নিজের ইচ্ছাকেই প্রাধাণ্য দিচ্ছেন তিনি। বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হতেই ঘাম ঝরে গেছে এই দলটির। তারপরেও আক্রমণভাগের একগুচ্ছ ধারালো খেলোয়াড় নিয়ে ম্যারাডোনা স্বপ্ন দেখছেন বিশ্বকাপ জয়ের এবং স্বপ্ন দেখছে এই দলের অগণিত সমর্থক।

ইটালি এবং জার্মানি-  পরিসংখ্যান বলে ব্রাজিলের পরে এরাই বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল। মার্সেলো লিপ্পির ইতালি এবং জোয়াকিম লো'র জার্মানি দল এবার আহামরি কিছু নয়। বিশেষ করে দলনেতা মাইকেল বালাককে ইনজুরির কারণে হারিয়ে জার্মানি পড়েছে বেশ নাজুক অবস্থায়। তবুও বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্সের পারদ বরাবরই উর্ধ্বমুখী, এই কারণেই ফেভারিটদের তালিকায় রাখা তাদের।

সম্ভাব্য সেরা দলটিকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড। বরাবরই তারা বিশ্বকাপের সমীহ জাগানিয়া শক্তি। তবুও ঠিক কাপ জয়ের দাবিদার তাদের কাউকেই বলা যাচ্ছে না। বড় কোন অঘটন ঘটাতে না পারলে এবারো কাপ ছাড়াই ফিরতে হবে এই দলগুলোকে।

প্রায় প্রতিটা বিশ্বকাপেই তাক লাগানো পারফরম্যান্স দেখা যায় কোন ছোটো দলের। এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আফ্রিকায়, কজেই আফ্রিকান দলগুলোর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবে বড় দলগুলো। নিজেরা কাপ জিততে না পারলেও কাপ জয়ের দাবিদার বড় কোন দলকে সরিয়ে দিতে পারে এই আফ্রিকান দলগুলো। বিশেষভাবে চোখ রাখতে হবে আইভরি কোস্ট, ক্যামেরুন এবং ঘানার উপরে।


বিশ্বকাপের তারকাঃ

প্রতি বিশ্বকাপ জন্ম দেয় নতুন কোন তারকা। ইতিহাসের পাতায় নিজেকে ধরে রাখতে ফুটবলারদের সবচেয়ে বড় উপলক্ষ হলো বিশ্বকাপ। পেলে-ম্যারাডোনা-ক্রুইফ-বেকেনবাওয়ার স্মৃতিতে আছেন বিশ্বকাপের কারণেই। নিতান্ত সাধারণ মানের খেলোয়াড় এই সাত ম্যাচের পারফরম্যান্সে যেমন চলে যেতে পারেন গ্রেটদের কাতারে, তেমনি দুনিয়া কাঁপানো পারফরম্যান্সে মাঝের চার বছর ক্লাব পর্যায়ে মাঠ মাতিয়েও খুব সাধারণ বলে গণ্য হতে পারেন সেরা খেলোয়াড়টিও।

ছোট দলের বড় খেলোয়াড়দের কথাই বলে নিই আগে। আইভরি কোস্টের দিদিয়ের দ্রগবা, ঘানার মাইকেল এসিয়েন, উরুগুয়ের ডিয়েগো ফোরলান, দঃকোরিয়ার পার্ক জি সুং এবং  ঘানার স্যামুয়েল ইতো- এদের দিকে কেবল তাঁদের দেশই তাকিয়ে নেই; বিশ্বকাপের দর্শকেরাও তাকিয়ে আছে ফুটবলের খাতিরে।

ফ্রান্সের ফ্রাঙ্ক রিবেরি, নেদারল্যান্ডের আরিয়েন রোবেন হতে পারেন বিশ্বকাপের অন্যতম তারকা।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে দুর্ভাগা ব্যক্তিটি হতে পারেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। প্রজন্মের দারুণ এক খেলোয়াড় হয়েও তিনি খেলবেন পর্তুগাল দলে। রোনালদো যদি পারেন এই দলকে নিয়ে বিশ্বকাপ জিততে তবে ইতিহাসে বড় রোনালদোর পাশে বসবেন তিনি অনায়াসে।

স্টিফেন জেরার্ড থাকা সত্বেও ইংল্যান্ড সমর্থকদের সবচেয়ে বড় ভরসা ওয়েইন রুনি। ইংরেজেদের 'রুনালদো' সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ক্লাব পর্যায়ের ফর্ম কতটা দেখাতে পারেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপভাগ্য নির্ভর করছে তার ওপরেই।

ব্রাজিল দলের অপেক্ষাকৃত মিডিওকারদের ভীড়ে চোখ রাখুন কাকা, রবিনহোর উপরে। লুইস ফ্যাবিয়ানোও হয়ে উঠতে পারেন এই বিশ্বকাপের পরে বড় তারকা।

তারকার অভাব নেই স্পেন দলে। ডেভিড ভিয়া, ফার্নান্দো তোরেস, ইকার ক্যাসিয়াস, জেরার্ড পিকে, কার্লোস পুয়োল, সেস ফ্যাব্রিগাসের বিশাল তারকা খচিত লাইনআপে আলাদা করে চোখ রাখুন আন্দ্রেই ইনিয়েস্তা এবং জাভি হার্নান্দেজের ওপর। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় তারকা হবার যোগ্যতা রয়েছে এই দুই স্প্যানিশের মাঝে।

...এবং দঃআফ্রিকা বিশ্বকাপের আগেই সবাই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার তকমাটা এঁটে দিয়েছে লিওনেল মেসির উপরে। বছর দুয়েক ধরে ক্লাব পর্যায়ে এই আর্জেন্টাইনের যা পারফরম্যান্স, তাতে স্বয়ং ম্যারাডোনা পর্যন্ত নিজের সেরা ফর্মের চেয়ে এগিয়ে রাখছেন এই মেসিকে। কিন্তু সর্বকালের সেরাদের মাঝে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বিশ্বকাপে বিশেষ কিছু করার বিকল্প নেই- এটা নিশ্চয় বোঝেন মেসি নিজেও। অতএব ২০০৬ সালের জিনেদিন জিদানের পারফরম্যান্সটা যদি মেসি দেখাতে পারেন এই বিশ্বকাপে, তবে অনেকদিন ধরে মনে রাখার মত এক ফুটবলারকে পেয়ে যাবে দর্শক।


বিশ্বকাপের টুকিটাকিঃ

দঃআফ্রিকা বিশ্বকাপের ভেন্যু সর্বমোট ১২টি। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে জোহানেসবার্গে।

বিশ্বকাপের মাস্কটের নাম 'জাকুমি'। সবুজচুলো এই চিতাবাঘের নাম নেওয়া হয়েছে 'জা' এবং 'কুমি' শব্দদয় থেকে। জা- বলতে দক্ষিণ আফ্রিকা বোঝায় এবং আফ্রিকান ভাষায় কুমি শব্দের অর্থ 'দশ'। জাকুমি ধারণ করছে এই বিশ্বকাপের মূলমন্ত্র, যেটি হলো, "Zakumi's game is Fair Play."

বিশ্বকাপের এবারের বলের নাম 'জাবুলানি'। জুলু ভাষায় এই শব্দের অর্থ- সকলের আনন্দের জন্যে। এডিডাসের প্রস্তুতকৃত এই বলে রয়েছে এগারটি ভিন্ন ভিন্ন রঙ, যেটি প্রতিনিধিত্ব করছে মাঠের এগারোজন খেলোয়াড় এবং আফ্রিকার প্রধাণ এগারটি ভাষার।

বিশ্বকাপের চমৎকার থিম সংটি গেয়েছেন সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান গায়ক কে'নান।
 




তবে ফিফা প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, বিশ্বকাপের থিম সংটি শাকিরার গাওয়া।




... এবং শেষকথাঃ


পুরোনো একটা উক্তি মনে পড়ে গেলো। "তিনটা জিনিস পৃথিবীতে সবাই চেনে। কোক, যিশু আর ফুটবল !!! " অতিরঞ্জন হতে পারে কিছুটা, তবে কথাটা সত্য বটে। পৃথিবীর সকল মানুষকে একই ভাবে আনন্দ দানের জন্যে ফুটবলের বিকল্প কিছু আর আছে কি ?? এমন একজন দুর্ভাগাও কি আছেন, যিনি শখের বশে পাড়ার ফুটবলে হলেও ঐ চামড়ার গোলকে দুয়েকটা লাথি কষান নি ??...

বিশ্বকাপ মানে তাই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সি পরে রাস্তায় জটলা করা, বিশ্বকাপ মানে চাঁদা তুলে নতুন টিভি, বিশ্বকাপ মানে পাড়ার ছাদে হরেক রঙের পতাকা, বিশ্বকাপ মানে চায়ের কাপে গলাগলি-গালাগালি, বিশ্বকাপ মানে আড্ডায় টেবিল চাপড়ানো, বিশ্বকাপ মানে প্রাণের বন্ধু সাথে বিচ্ছেদ- এমন কী বিশ্বকাপ শুরুর আগেই !!!!

... এতো গেলো সাধারণ মানুষের কথা। বিশ্বকাপ কিন্তু কাকা-রোনালদো-মেসি'দের কাছেও বিশেষ কিছু। বিশ্বকাপের আরেকটা মানে যে পেলে-ম্যারাডোনাও !!! ওই সারিতে নাম বসিয়ে অমর হতে হলে রাস্তা কোথায় আর কাকা-রোনালদো'দের ???...


অমরত্বের হাতছানি আর বিশ্ব জুড়ে আবেগের ঢেউ বইয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ এই শুরু হলো বলে। প্রস্তুত বিশ্ববাসী। মাঝে আর মাত্র কয়েকটা দিন...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন