রবিবার, ৭ মার্চ, ২০১০

সেরিওজা এক্সপ্রেস-০১

পারলো না বাংলাদেশ

টাইগারেরা হতাশ করলো আবার। তীরে এসে তরী ডুবলো। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জয় এখনো রয়ে গেলো অধরা।...

জয়টা বাংলাদেশের প্রাপ্য ছিলো। শেষ চার ওভারে ৩১ রান দরকার ছিলো ইংরেজদের, হাতে ছিলো দুই উইকেট মাত্র। এডি মরগান অভিষিক্ত বোলার ট্রেডওয়েলকে নিয়ে এক ওভার হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করে দেবেন- এটা আশা করা ছিলো অনুচিত। সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্বে শেখার আছে এখনো বহুকিছু। আমাদের মিনি অলরাউন্ডারে ভরপুর দলটার বাঁহাতি স্পিনারেরা যেখানে ভালোই করছিলো- সেখানে শেষ পাওয়ার প্লে- তে পেসার ব্যবহারের যৌক্তিকতা বুঝলাম না। ফিল্ডিং-এ এই দলের দূর্বলতা প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে প্রায়ই। ভাগ্যটাও আজ পক্ষে ছিলো না টাইগারদের। বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আম্পায়ারেরা আমাদের পক্ষে দিতে পারতেন। এডি মরগানও দারুণ খেলেছেন -মানতেই হবে। চাপের মুখে নবীন এই খেলোয়াড়ের টেম্পারমেন্ট থেকে আমাদের ব্যাটসম্যানেরা শিখতে পারেন অনেক কিছু।...



মোটের উপর আজকের খেলা মন্দ লাগলো না। বাংলাদেশের এই দলটাকে নিয়ে আশা করা যায়। নিয়মিত জিততে শিখে যাবে একদিন, আশা রাখি। ... তবে তার জন্যে সবচেয়ে বেশি দরকার 'প্রতিভা'গুলোর ছাঁটাই। আশরাফুল বিশ্রামে গেছেন, আফতাবকেও বিশ্রামে যাবার দাবি জানাই।



বইমেলা, বইপড়া

একুশে বইমেলা শেষ হয়ে গেলো। ভালোই কাটলো একটা মাস। ক্লাস বন্ধ ছিলো এবার মেলা চলাকালীন সময়ে। তাই সময় পেলেই বিকালে বা সন্ধ্যায় চক্কর দিয়ে এসেছি সময় পেলেই। শেষের দিকের কয়েকটা দিন অবশ্য নিয়মিত যাওয়া হয় নি। পকেটের দিকে নজর দিলে এটাকে অবশ্য বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত বলে বাধ্য হই। সচল সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটা বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে যাওয়া হয়েছে- অন্যান্য বছরের গতানুগতিক মেলার চাইতে পার্থক্য বলতে এটাই।


বই কম কেনা হয় নি এবার। সচলদের বেশ কিছু ছোটগল্প সংকলন, একটা উপন্যাস। সেবা প্রকাশনীর পেপারব্যাকগুলো প্রতিবারই কিছু না কিছু কিনি, এবারো কেনা হলো। সংগ্রহে রাখার মত বই বলতে কেনা হলো মাহমুদুল হকের অগ্রন্থিত গল্পসমগ্র, চেখভের ছোটগল্পের সংগ্রহ। শিমুল ভাইয়ের পরামর্শে কিনলাম সৈয়দ শামসুল হকের মার্জিনে মন্তব্য। মেলার বাইরের ফুটপাথ হতে কিনলাম নীলক্ষেত এডিশনের দুটা রহস্যোপন্যাস কালেকশন- দীনেন্দ্রকুমার রায়ের রবার্ট ব্লেক থেকে নারায়ণ স্যানাল পর্যন্ত আছে দেখলাম।


বই কেনা যতটা হয়েছে, পড়া ততটা কোমর বেঁধে শুরু হয়নি। সেবার অনুবাদগুলো শেষ করেছি সবার আগে। ছোটগল্প পড়া হচ্ছে বিক্ষিপ্তভাবে। কখনো মাহমুদুল হকের, কখনো ধার করে আনা শাহাদুজ্জামানের অনুবাদ গল্পের, কখনো কয়েস চৌধুরীর। সচলপাড়ারগুলোতেও মোটামুটি চোখ বুলানো সারা। হালকা চালে
রহস্যোপন্যাস পড়তেও মন্দ লাগে না। ফেলুদার বাদশাহী আংটি আর কিরীটি রায়ের ঘুম নেই- রিভাইজ দিয়ে নিলাম একবার...

একটি ফুটবল ম্যাচ


আজিমপুর কলোনীতে আমাদের একটা ফুটবল ক্লাব ছিলো। ছিলো মানে এখন নেই, সেটা নয়। আগে প্রতিদিন বিকেলে হৈ-হল্লা করে দল ভাগ করে যেভাবে নিয়মিত খেলা হতো, সেটা এখন আর হয় না। কলোনী ছেড়ে এসেছি বছর তিনেক হলো। মোটামুটি তার আগে পরে ছয়মাসের মাঝেই আমাদের ফুটবল ক্লাবের অধিকাংশ সদস্যরাই কলোনী ছাড়ে। কেউ পড়তে ঢাকার বাইরে যায়, কেউ আমার মতই বাবার বদলীর কারণে কলোনী ছাড়তে বাধ্য হয়। পাড়াতো ফুটবলের যে স্বাদ- সেটা কাউকে বলে বোঝানো সম্ভব না। এখন কেবল কালেভদ্রে বাইরের কোন দলের সাথে ম্যাচ পাতালেই খেলা হয়। পুরোনো বন্ধুদের জমায়েত হয়, অন্ততঃ ঢাকাস্থ ছেলেপুলে সবাই ছুটে আসে।


... যেমন এলো ২৪ তারিখ। অন্য পাড়ার সাথে ম্যাচ। বহুদিন পরে খুব আয়োজন করে আজিমপুরের অগ্রণী স্কুলের মাঠে খেলা শুরু হলো। খেলা মিনিট পনের হতে না হতেই... সে কী বৃষ্টি !!! বৈশাখের আগেই আদর্শ একটা কালবৈশাখী দেখলাম। তুমুল বাতাস, সাথে শিলাপতনও হলো খানিক পর। বিরতি দিয়ে ফুটবল ম্যাচ হলো সেদিন। বহুদিন পর আবার পাড়াতো ফুটবলের সেই বন্য মজা পেলাম। চারপাশের ক্রমশঃ ছোট হয়ে আসা শহরটাকে বড় ভালো লাগলো সেদিন।

পরীক্ষা


বুয়েটের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার রুটিন দেবে, আর পরীক্ষা পেছাবে না- এমনটা হয়েছে কি আমার আড়াই বছরের বুয়েট জীবনে ?? মনে পড়ে না। ব্যতিক্রম হলো না এবারো। পরীক্ষা পেছালো দুই কিস্তিতে দুই দু'গুনে চার সপ্তাহ।


... পরীক্ষা পিছিয়ে আদৌ লাভ আছে নাকি নেই- সে তর্ক অবান্তর। তের সপ্তাহের স্টিম রোলারে পিষ্ট হবার পর কয়েকদিন শুধুই বিশ্রাম করার লোভ আসলে সামলানো যায় না। বইমেলা, খেলা দেখা, মুভি দেখা, খোমাখাতা গুঁতানো, ব্লগিং... পরীক্ষার আগে ভীষণ ব্যস্ত থাকতে হয়, দেখতেই পাচ্ছেন।


বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক !!




...এবং একটি অসমাপ্ত গল্পের স্মৃতি

৫৫ বছর একত্রে জীবন কাটিয়ে এসে নানা ভাই এবং নানু চিরতরে চলে গেলেন ঠিক ৫৫ দিনের ব্যবধানে। নতুন বছরের একদম শুরুতেই চলে যাওয়া নানা ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে অভ্যস্ত হবার আগেই নানুও চলে গেলেন ফেব্রুয়ারীর ২৬ তারিখ- ১২ই রবিউল আওয়াল।...


স্মৃতির শৈশবের প্রায় সবটা জুড়েই তাঁরা আছেন। সেই পিচ্চিকালে যখন বই পড়ার আনন্দটা বুঝতে শিখছিলাম, তখন আমার সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন নানা ভাই। সারাটা বছর মুখিয়ে থাকতাম ছুটিতে নানাবাড়িতে যাবো বলে। বিশাল ঐ বাড়িতে দৌড়ঝাঁপের সাথে সাথে আরেকটা লোভও ভালোমতই থাকতো মনের মাঝে, বইয়ের লোভ। কারণ ঢাকা ফেরত আসার আগে নানা ভাই অতি অবশ্যই কিনে দেবেন পছন্দ মতন বই। তখন ছিলো তিন গোয়েন্দা, সেবার কিশোর ক্লাসিক, অনুবাদ আর টিনটিনের সময়। বড় হবার সাথে সাথে নানা ভাইয়ের ওই আকাঙ্খিত বই কেনা কোথায় হারিয়ে গেলো, জানি না।...


নানুর সাথে অগণিত স্মৃতি। মজার বিষয় হচ্ছে, বিশাল ফাঁকা গ্রামের বাড়িটাতে ভূতের ভয়ে নানুকে আঁকড়ে ধরে রাত কাটানো কিংবা ঘন্টা খানেক পুকুরের পানিতে দাপাদাপির পরে নানুর ডাকে উঠে এসে জোর করে ভাত খাওয়ার স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে না খুব বেশি। মনে পড়ছে- নানুর বলে যাওয়া একটা অসমাপ্ত গল্পের কথা। রুপকথার ঠাকুরমা'দের মতো নানু গল্প খুব বেশি বলেন নি। গল্প বলতে বললে নানু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটা গল্পই বলতেন, এমন একটা গল্প- যেটার শেষ উনি নিজেও ভালোভাবে বলতে পারেন নি কখনো। যদ্দূর মনে পড়ে, গল্পের মাঝে একটা কাক ছিলো। টুকটুকে একটা রসালো ফল খাবার লোভ জেগেছিলো সেই কাকের। নানাভাবে চেষ্টা করেছিলো সে ফলটাকে খাওয়ার জন্যে, কিন্তু সফল সে হতে পারেনি...


দূর কোন ভবিষ্যতে এই কাকের গল্প আমি যখন কোন পিচ্চিকে শোনাবো- আমি ঠিক জানি- গল্পটার শেষ আমিও বলতে পারবো না গুছিয়ে। শ্রোতা যদি আমায় জিজ্ঞেস করে- তারপর কী হলো; আমি বলবো যে -গল্পটা আমিও পুরোটা শুনতে পারিনি গল্পকথকের কাছ হতে। আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে মমতাময়ী নারীটি, অনাগত কারো কাছে পরিচিত থাকবেন একটি অসমাপ্ত গল্পের স্মৃতি হয়ে...। সময় বড় বিচিত্র।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন