শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০০৯

আমি স্যাম বলছি


স্টারবাকস কফি শপের এক জ্যানিটর স্যাম ডসন- তার মূল কাজ কেবল কফি তৈরীতে সাহায্য করা এবং খদ্দেরের কাছ থেকে অর্ডার গ্রহণ। এই স্যামের সাথে ভাসমান এক নারীর ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের নিমেষের ভুলে জন্ম নেয় একটি শিশুকন্যা। সন্তান জন্মের পরপরই ভাসমান নারীটি ত্যাগ করে স্যামকে- যেখানে ছবিটি শুরু হয়েছে। এরপরের গল্প স্যামের একটি অন্যরকম যুদ্ধের। এই যুদ্ধ শিশুটির মায়ের অভাব পূরণ করতে নয়, এই যুদ্ধ দারিদ্র্যের সাথেও নয়- এই যুদ্ধ স্যামের নিজের সাথে তার মেয়েটির। কারণ সন্তানের জন্যে অপরিসীম ভালোবাসা লালন করা স্যাম একজন অটিস্টিক- যার বুদ্ধিমত্তা একজন সাত বছর বয়সী শিশুর সমান।


বীটলসের অন্ধভক্ত স্যাম সন্তানের নাম রাখে জন লেননের 'লুসি উইথ দ্যা ডায়মন্ড ইন স্কাই' গানের অনুকরণে; লুসি ডসন। সাত বছরের শিশু স্যাম এই লুসিকে বড় করে তোলার সময় পাশে পায় পাশের ফ্ল্যাটের মিসেস এনি ফ্রেজার নামের বৃদ্ধাকে- অজ্ঞাত কোন কারণে যিনি ২৮ বছর বয়স থেকে এই এপার্টমেন্টের বাইরে বেরোননি। লুসির মুখ থেকে প্রথম উচ্চারিত শব্দটি হয়- "এনি" !!... আর সাথে থাকে স্যামের অটিস্টিক স্কুলের ছেলেবেলার ছেলেবেলার চার বন্ধু- এই পাঁচ বন্ধুর মাঝে অটিজম ছাড়া আরেকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের অন্ধ 'বীটলস' প্রীতি।


গোলমালটা বাঁধে লুসির সাত বছরের জন্মদিনে। বুদ্ধিমত্তার মাত্রায় পিতার সমান হয়ে যাওয়া লুসি তার এক বন্ধুকে 'অটিস্টিক পিতা' বলে স্যামকে পরিচয় দিতে চায় না, বরং বলে- সে স্যামের দত্তক নেয়া সন্তান। দেশের "শিশু অধিকার বিষয়ক আদালত" কাজে নেমে পড়ে। সাত বছরের বুদ্ধিসম্পন্ন স্যামের হাতে লুসির ভবিষ্যৎ বিকাশ সঠিকপথে হবে না- এই মর্মে মামলা দায়ের করে সরকার লুসিকে আরেকটি পরিবারে পাঠানোর দাবি জানায়। ঘন্টায় আট ডলার আয় করা স্যাম লুসির জন্যে ভালোবাসায় ধরণা দেয় শহরের সবচেয়ে সফল ল'ইয়ার রিটা হ্যারিসনের কাছে। নানা ঘটনার পরে রিটা কাজে নামে লুসিকে ফিরিয়ে আনার কাজে এবং সেই সাথে ব্যক্তি-জীবনে অসুখী মা রিটার ধারণা হয়; এই 'অটিস্টিক' পিতার কাছ থেকে শেখার মত তার অনেক কিছুই রয়েছে...। ঘটনা এগোয়।


জেসি নেলসন পরিচালিত ১২৪ মিনিটের 'আই এম স্যাম' চলচ্চিত্রের কাহিনী এগিয়েছে এইভাবে। নানা ছোট-খাটো ঘটনা আর সংলাপ এই ছবির প্রতি দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম বেশ ভালোভাবেই। স্মরণীয় অনেক দৃশ্যের মাঝে আমার মনে ধরেছে আদালত কক্ষে স্যামের জবানবন্দী; সেই আদালত কক্ষেই লুসি আর স্যামের কান্নার দৃশ্য আর পুরো ছবি জুড়েই স্যাম আর বন্ধুদের কথোপকথন - তাদের 'বীটলস' উদ্ধৃত করা সব সংলাপ।


ছবিতে লুসি চরিত্রে ডাকোটা ফ্যানিং আর রিটা চরিত্রে মিশেল ফেইফার ভালো কাজ দেখিয়েছেন। ছবির নেতিবাচক দিক ছিলো শেষের দিকে কাহিনীর একটু গতি হারিয়ে ফেলা এবং পরের দৃশ্যে কী হতে চলেছে সেটা বুঝে নিতেও দর্শককে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। আর ছবির সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিলেন- শন পেন একাই। 'রেইনম্যান' ছবিতে ডাস্টিন হফম্যান আর 'ফরেস্ট গাম্প' ছবিতে টম হ্যাঙ্কস- এই দুইজনের অসাধারণ অভিময় দেখার ভাগ্য হয়েছে; কিন্তু শন পেন যেনো ছাড়িয়ে গেলেন বাকি সবাইকেই। একটা সাধারণ গল্পের ছবিকে তিনি একাই বানিয়ে দিলেন অসাধারণ।


কাজেই যারা একটু কষ্ট পাওয়া ছবি দেখতে চান- দেখে নিন 'আই এম স্যাম'। আমার বেশ ভালোই লেগেছে। আপনারও লাগবে আশা রাখি।

1 টি মন্তব্য: