সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

একজন প্রেরণাদায়িনী

আমি একজন চে গুয়েভারা হতে পারতাম।
আমি পারতাম ২৩ বছরে বয়েসে আমার মোটরসাইকেল ডায়রীতে তুলে ধরতে বঞ্চিত শ্রমিকদের দক্ষিণ আমেরিকা। আমি বিপ্লব শুরু করতে পারতাম কিউবা, কঙ্গো এমনকি বলিভিয়ায় পর্যন্ত। আমি জেনারেল রেনে বারিএনতোজের বিপক্ষে বিপ্লবে নেমে লা হিগুয়েরায় গুলিবিদ্ধ-বন্দী হয়ে বলতে পারতাম, "মারো কাপুরুষ, গুলি চালাও। তোমাদের গুলিতে মরবে শুধু মানুষটি।"

আমি সত্যি একজন চে গুয়াভারা হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি বললে,"কি সব পাগলামি করছো ?? চে গুয়াভারা হতে হবে না, এসো- কথা বলি। "
আমার আর চে হওয়া হলো না।


আমি একজন সত্যজিৎ রায় হতে পারতাম।
আমি পারতাম রায় বাড়ির সম্ভ্রম অক্ষুন্ন রেখে দুর্দান্ত স্কেচ করতে। আমি পারতাম নেপোলিয়ানের চিঠি উদ্ধারে ফেলুদাকে নিয়ে বেরোতে, আমি পারতাম প্রফেসর শঙ্কুর ঐ একশৃঙ্গ অভিযানে নেতৃত্ব দিতে, আমি পারতাম বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন এক সৌমিত্রকে এনে দিতে, পারতাম একটা মাত্র অরন্যের দিনরাত্রি-তে এই সভ্যতার অন্তঃসারতাকে ফুটিয়ে তুলতে।

আমি সত্যি একজন সত্যজিৎ রায় হতে চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি বললে, "ওরে পাগল, সত্যজিৎ হবার দরকার কি তোর ?? আমি আছি, এসো- আমার সাথে কথা বলো। "
আমার আর সত্যজিৎ হওয়া হলো না।


আমি একজন আর্তুর র‌্যাঁবো হতে পারতাম।
অসীম প্রতিভাধর হয়েও সমসাময়িক ঈর্ষাতুর কবিদের উন্নাসিকতায় একরাতেই পুড়িয়ে ফেলতাম আমার সব কবিতা। আমার সমকামিতাকে আমার সময় দেখতো ঘৃন্য চোখে। আমি নির্বাসন নিতুম আফ্রিকায়। আমায় নিয়ে পাঠকেরা পরে রেনে শা'র মতো লিখে দিতো - "তুমি ছেড়ে গিয়ে ভালোই করেছো র‌্যাঁবো..."।

আমি সত্যি একজন আর্তুর র‌্যাঁবো হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি বললে, "কবিতার দরকার কি তোমার ?? আমি-ই তো তোমার কবিতা। রক্ত-মাংসের এই কবিতার সাথে কথা বলো।"
আমার আর আর্তুর র‌্যাঁবো হওয়া হলো না।

কিন্তু কি আশ্চর্য, আজ রাতে মুঠোফোনে আমি যখন বললাম, "এসো কথা বলি।" নির্বিকার তুমি অনায়াসে বললে, "এখন যে ফেসবুকে চ্যাট করছি, পরে কথা হবে।" ... এই বলে-কী আশ্চর্য- ফোনটা রেখেও দিলে...

আমি একজন আর্তুর র‌্যাঁবো হতে পারতাম।
আমি একজন সত্যজিৎ রায় হতে পারতাম।
আমি একজন চে গুয়েভারা হতে পারতাম।
...কিন্তু , আজ আমি কেবল একজন প্রত্যাখ্যত হতে পেরেছি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন