মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

ফেব্রুয়ারি ৫ এর জার্নাল

শাহবাগ এসে রিকশা আটকে গেলো। সামনে অবরোধ করেছে একদল তরুণ। রাস্তা ঘিরে ওরা গোল হয়ে বসে আছে। গান গাইছে। কোন ভাঙচুর নেই, ধ্বংস নেই। ক্ষোভ আছে, বিহবলতা আছে।

আমি রিকশা থেকে নেমে ফুলের দোকানগুলো ক্রস করার আগেই মিছিলটা চলে এলো। মশাল মিছিল। আমার বন্ধু রাশেদ-উপন্যাসের মশাল মিছিলটা সঞ্চারী বা স্থায়ী বাদ দিয়ে কেবল একটা কথাই তালে তালে ঝমাঝম রেলগাড়ির মতো বলছিলো। ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’। এই মিছিলটাও দেখি একটা কথাই বলছে। ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই।’

শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৩

সাদা লাঠি

 
"...আমি সে চক্ষু দেখিতে দেখিতে অন্যমনস্ক হই, এর বেশি আর বুঝাইতে পারি না। "
-বিষবৃক্ষ [বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]
 
প্রতিটা সন্ধ্যায়-এখানে- শুরু হয় নতুন দিন।
সাধারণতঃ মানুষের দিনের শুরু হয় ভোরে। পরীক্ষার্থী ছাত্র আর সদ্য দম্পতির জন্যে দিনের আরম্ভ দেরীতে হতে পারে কিছুটা, পত্রিকা হকার আর মসজিদগামী কিছু মানুষের আবার দিনের শুরু হয় খুব ভোরে। বাবা বলতেন- ঈশ্বর বেহেশতের দরজা খুলে রাখেন ঠিক সূর্যোদয়ের মুহুর্তে। বেহেশতের বাতাসে দিন শুরুর লোভে অবশ্য খুব বেশি মানুষ ভোরে ওঠে না আজকাল, আবার ছাত্রদের প্রতিদিন পরীক্ষা থাকে না। শহরের দিনের শুরুও তাই বদলে বদলে যায়। কিন্তু বাড়িভাড়া নেবার আগে তো সন্ধ্যায় কখনো এদিকটায় আসিনি, নয়নতারা হাউজিং সোসাইটির চার নম্বর বাড়ির তেতলার ফ্ল্যাট ৩/ডি বাসায় উঠবার আগে তাই আমি জানতামই না ঘটনাটা।

শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১২

শত আশা

করাচির হোটেল পার্ল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বিছানায় শুয়ে ছিলেন ক্রেইগ ম্যাকমিলান। ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ তে পরাজয়ের পরে লাহোর টেস্টে ইনিংস আর ৩২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হার, নিউজিল্যান্ডার ম্যাকমিলানের মনোবল পড়তির দিকে- সন্দেহ নেই। বিশাল এক হাই তুলে ঘড়ির দিকে তাকালেন ম্যাকমিলান। ঘড়িতে বাজে সকাল পৌনে আটটা। স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্ট আর ঘন্টা দুয়েকের মাঝেই শুরু হবে করাচি স্টেডিয়ামে। ম্যাকমিলান উঠতে যাবেন বিছান থেকে... ঠিক সেই মুহুর্তেই কেঁপে উঠলো পৃথিবী।

রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১২

পুবের সূর্য

বন্যেরা বনে সুন্দর আর টাইগাররা খুলনায়- বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিলো জোর গুজব। সত্যতা আছে কথায়। খুলনার মাঠে দাপুটে দুই ম্যাচ জিতে আসা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ঢাকায় এসে একটু পালটে গেলো বোধহয়। দুটো ম্যাচেই জেতা সম্ভব ছিলো। একটা বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরির পর স্টিভ ওয়াহর স্যালুট রুপে তার লাল রুমাল জিতে নেয়া মারলন স্যামুয়েলস, ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পর্বে এসে নিজেকে যিনি বারবার চেনাচ্ছেন নতুন করে। দ্বিতীয় ম্যাচটা হয়ে রইলো বাংলাদেশের- ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস- ক্রিকেট প্রবাদের শিক্ষা, ইন্ডিজ রেনেঁসার কাপ্তান ড্যারেন সামি সেটায় ছিলেন শিক্ষক।

মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১২

রহস্য গল্প

কায়েস চৌধুরীর মাথার ভেতরে চিন্তা চলছে ঝড়ের গতিতে। সম্মেলনকেন্দ্রের ভেতরের মৃদু শব্দে চলা এয়ার কন্ডিশনারটাও পারছে না তার কপালের ঘামের ফোঁটাগুলোকে থামিয়ে দিতে। কফির কাপে চুমুক দিচ্ছেন কায়েস চৌধুরী। তেতো কফি- অন্য সময় হলে ছুঁড়ে ফেলে দিতেন তিনি এটাকে- এই মুহুর্তে ভ্রুক্ষেপও করছেন না সেদিকে। ভয় পেয়েছেন, কায়েস চৌধুরী ভয় পেয়েছেন...

প্রথমে হলুদ স্কার্ফে ফ্যাঁসফ্যাঁসে গলার স্বরে অলিভার আনিস, এরপর ডোরাকাটা হাতকাটা গেঞ্জির মোটর ফাইয়াজ। একের পর এক জট পাকিয়ে যাচ্ছে সব মাথার ভেতর...

সেই সময়ের সুনীল

‘ওয়াচম্যান’ সিনেমাটার শুরুতেই বব ডিলানের একটা চমৎকার গান আছে। দ্যা টাইমস দে আর আ চেঞ্জিং। সব কিছু বদলায়, সব কিছুই বদলে যাচ্ছে, সব কিছুই বদলে যাবে। পৃথিবী ঘুরবেই।

সুনীলের কোন লেখাটা প্রথম পড়েছিলাম, সেটা আমার নিজেরও মনে নেই ঠিক। কেবল মনে আছে সে বইতে খোঁড়া একজন মানুষ- যার মনের জোর সাংঘাতিক- সেই রাজা রায় চৌধুরী নামের একটা মানুষ ছিলো। খুব সম্ভব ভূপাল রহস্য ছিলো প্রথম বইটার নাম। এরপর পড়লাম ভয়ংকর সুন্দর।

শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

জানালা মানুষ

অঞ্জন দত্তের গান প্রথম শুনবার সময়টা মনে নেই, কেবল এটুকু মনে আছে তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। প্রাইমারি স্কুলে পড়বার সময় আমার ধারণা ছিলো প্রতিবছর শীতকালে ঈদ হয়। আর সেই ঈদের জন্যে শীতের সকালে গ্রামের বাড়িতে পেছনের লাগোয়া গোসলঘরে কাঁপতে কাঁপতে মাথায় পানি দিয়ে গোসল করতে হয়। সেইরকম কোন একটা ঈদ করবার পর মামার গাড়িতে চেপে গ্রাম থেকে রওয়ানা দিয়েছি চট্টলা শহরের দিকে। মেজোমামার ভোক্সওয়াগনের জানালা দিয়ে ঢুঁকছে ঠান্ডা বাতাস, আমি আম্মার পাশে আধ বসা- অর্ধ দণ্ডায়মান অবস্থায় সামনের সিটের কাঁধ আকঁড়ে ধরে আছি। আর এরমাঝে কেমন একটা গলায় কে যেন সমানে চ্যাঁচিয়ে যাচ্ছে- বড় বড় বড় বড় গোল গোল চোখ, হরিপদ একজন সাদামাটা ছোটোখাটো লোক।......

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১২

ইনভিকটাস, ১৯৭১

Some people believe football is a matter of life and death, I am very disappointed with that attitude. I can assure you it is much, much more important than that.”- Bill Shankly
 
ক।

বাবার সামনে দাঁড়ালেই বুক কেঁপে উঠতো কেনো জানি, যে কারণে বাবার কাছে মুখ ফুটে মনের কথা বলা কখনোই হয়নি তার, যত আবদার ছিলো মায়ের কাছে। এর অন্যথা হয়নি কোনদিন।

‘তোর বাবা বলতেছিলো তোকে লন্ডন পাঠায়ে দিবে নাকি আগামী মাসে,’ তূর্যকে বলেছিলেন মা। ‘ এই নিয়ে ফয়েজ চাচার সাথে কথাও হইছে নাকি দুই-একবার।’

রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১২

আমিই মরিনহো

 হাঁটু মুড়ে ডাগআউটের পাশেই মাঠে বসে ছিলাম আমি। টাইব্রেকারের শেষ কিকটা নিতে মাঝমাঠ থেকে শোয়েইনি যখন সামনে এগুলো, তার স্থির অথচ জোরালো পদক্ষেপগুলো দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম যে সব শেষ, জার্মান স্নায়ূ আরো একবার বরফশীতল থেকে বিজয়ী হয়েই মাঠ ছাড়তে যাচ্ছে। তারপরেও একটা ক্ষীণ আশা ছিলো। যদি হয়, যদি হয়ে যায়...

শুক্রবার, ১ জুন, ২০১২

ববি ফিশার কোথায় গেলেন

স্থান, কাল অভিন্ন। পাত্ররাই আলাদা কেবল।

মানে সেই ক্যাফেটরিয়ার নিষ্কর্মা কর্ণার, বাইরে সেই বেলা বারোটার ঝিম ধরা কর্কশ দুপুর। কেবল পাত্রের সংখ্যা একজন বেশি। আমাদের চারমূর্তির সাথে যোগ দিয়েছেন কবিরের এক কাজিন, আদনান ভাই।

ভদ্রলোক একেবারে জাঁদরেল ছাত্র। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্বনামধন্য সেই এমাইটির থেকে পিএইচডি করে এসেছেন। চেহারাও সেই পাঠ্যপুস্তকের বলদ কিছিমের ফার্স্ট বয়দের মতোই। সিঁথি করে আঁচড়ানো চুলের সাথে মানানসই গোল ফ্রেমের চশমা। তার ওপর ভদ্রলোকের পরনে আজ একদম সাহেবী পোষাক, কোথায় যেন ইন্টারভিউ দিতে যাবেন। গলির ভেতরে ট্যাক্সি যাবে না বলে আমাদের সাথে ক্যাফেতে চলে এসেছেন সময়ের আগেই রেডি হয়ে।