শুক্রবার, ৬ জুন, ২০১৪

পর্তুগীজ না স্প্যানিশ ভাষার বিশ্বকাপ ?

ফরাসী রাইট উইঙ্গার লুই লরেন্ত সূচনা করেছিলেন যে উৎসবের, পরবর্তী সময়ে তা রুপ নিয়েছে দুনিয়ার তীব্রতম আবেগে। এর মাঝে পৃথিবী দেখে ফেলেছে অনেকগুলো যুদ্ধ আর বিপ্লব, বহু রাজা হারিয়েছেন সিংহাসন, সম্রাটদের প্রয়াণ করে দেয়া যুগে এসেছে জেনারেল আর রাজনীতিক হত্যাকাণ্ডের কাল, এরপরে সমাজতন্ত্র আর পুঁজিবাদের ডুয়েলেও একপেশে লড়াই হয়ে গেছে মাদার আর্থে। পৃথিবী পাল্টেছে, পাল্টেছে প্রথা। শুধু জোহানেসবার্গ সকারসিটি মাঠে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ভলি জালে জড়াতেই লুই লরেন্ত এখনো ফিরে ফিরে আসেন, গোলের খেলা ফুটবলের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম গোলটাই ছিলো লুই লরেন্তের। বছর নয় আগে গত হওয়া লুই হয়তো গেছেন একটা আক্ষেপ নিয়ে। ইশ, যদি এই যুগের বিশ্বকাপে একটা গোল করতে পারতাম !

সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩

না ভোলার ফরাসী সৌরভ

তুমি বাংলাদেশের লোক ? ঠিক বলছো, সত্যি? ...ওয়াও, তোমাদের বাংলাদেশকে আমি কখনোই ভুলবো না। ...কী, অবাক হচ্ছো শুনে ?

একটু ভেবে দেখো, আমাকে যদি মনে থাকে তোমার- তাহলে সত্যি কি পারবে বাংলাদেশকে ভুলে যেতে ? আরে উইলস কাপের কথা মনে নেই ? সেই যে, তোমরা যেটাকে মিনি বিশ্বকাপ বলে ডাকছিলে ? হ্যাঁ- সেটার ফাইনালে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট নিয়েছিলাম আমি। সেমিতে দিয়েছিলাম ১০০ বলে ১১৩র এক বিস্ফোরক। বাংলাদেশকে ভোলার তাই কোন কারণ নেই আমার। ক্রনিয়ের সাথে ট্রফি হাতে নিয়ে ড্রেসিংরুমে ঢুকছিলাম যখন- তখন থেকেই কানে আসতে শুরু করলো বাকি ক্রিকেটের দুনিয়ার ফিসফিস– পরের বছরগুলোতে যেটা রুপ নিয়েছে অক্ষম ক্রোধে। ‘হ্যাঁ, প্রোটিয়াদের অলরাউন্ডার আছে বটে একটা !’

রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৩

টেস্ট ক্রিকেটের সুন্দরতম দিন

টেস্ট ক্রিকেট বোধহয় নাটক ভালোবাসে। ৫ম দিনের শেষ তিন বল বাকি থাকতেও জোহানেসবার্গে সম্ভব ছিলো চার রকমের ফলাফলই। দক্ষিণ আফ্রিকার জয়, ভারতের জয়, ম্যাচ ড্র, ম্যাচ টাই। শেষ বলে স্টেইন ছক্কা মেরে নাটকের ট্রাজেডিটা আরেকটু জমিয়ে দিলেন স্কোরবোর্ডের পাঠকদের জন্যে। ইস, আর ৮টা রান হলেই তো জিতে যায় আফ্রিকা ! আক্ষেপটা আরেকটু বাড়তে পারে, যদি আপনি জানেন যে এর আগের ১৮ বল থেকে স্টেইন-ফিল্যান্ডার জুটি রান তুলেছে মাত্র ২ !!

শনিবার, ১ জুন, ২০১৩

মতি নন্দীর মানুষেরা

মতি নন্দীর সাথে আমার পরিচয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র- বিসাকে’র মাধ্যমে। তখন ইটিভির যুগ, ডাব্লু ডাব্লু এফের যুফ। ছয়টা টু সাতটা। রক, স্টিভ অস্টিন আর কার্ট এঙ্গেলের ধুন্ধুমার নাটক। ওই সময়টা তাই টিভির সামনে নড়বোই না। আবার আলো আমার আলো ওগোর গান গেয়ে বাস আজিমপুর সেন্টার মাঠের পাশে দাঁড়ায় সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। স্টিভ অস্টিন পর্ব শেষ করেই তাই ছুট। ছুটতে ছুটতেই সে যাদুভর্তি বাসে গিয়ে উঠতাম। আধঘন্টা ধরে ভাবতাম কোন বইটা নিবো। অবশেষে সাতদিনের জন্যে একটা বই নিতাম। বাহুল্য মনে হতো সাতদিন। সাধারণতঃ দুইদিনেই ধার নেয়া বইটা পড়া হয়ে যেতো।

তেমন এক সন্ধ্যায়, ইস্যু করেছিলাম মতি নন্দীর স্ট্রাইকার।

মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৩

অগ্নিপুরুষ

আজ মাসুদ রানার জন্মদিন।

আমাদের বয়স বাড়ছে। ফুটবল মাঠ ছাড়া হাফপ্যান্ট পড়লে লোকে বাঁকা চোখে তাকায়। নাইন্টি ফোরের সেই মনে গেঁথে যাওয়া সেলিব্রেশনের বেবেতো আর রোমারিও- তাদের দুইজনের ছেলেরাও নাম লিখিয়েছে পেশাদার ফুটবলে। রানা হারামজাদা এখনো সমানে লাম্পট্য চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

ফেব্রুয়ারি ৫ এর জার্নাল

শাহবাগ এসে রিকশা আটকে গেলো। সামনে অবরোধ করেছে একদল তরুণ। রাস্তা ঘিরে ওরা গোল হয়ে বসে আছে। গান গাইছে। কোন ভাঙচুর নেই, ধ্বংস নেই। ক্ষোভ আছে, বিহবলতা আছে।

আমি রিকশা থেকে নেমে ফুলের দোকানগুলো ক্রস করার আগেই মিছিলটা চলে এলো। মশাল মিছিল। আমার বন্ধু রাশেদ-উপন্যাসের মশাল মিছিলটা সঞ্চারী বা স্থায়ী বাদ দিয়ে কেবল একটা কথাই তালে তালে ঝমাঝম রেলগাড়ির মতো বলছিলো। ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’। এই মিছিলটাও দেখি একটা কথাই বলছে। ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই।’

শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৩

সাদা লাঠি

 
"...আমি সে চক্ষু দেখিতে দেখিতে অন্যমনস্ক হই, এর বেশি আর বুঝাইতে পারি না। "
-বিষবৃক্ষ [বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]
 
প্রতিটা সন্ধ্যায়-এখানে- শুরু হয় নতুন দিন।
সাধারণতঃ মানুষের দিনের শুরু হয় ভোরে। পরীক্ষার্থী ছাত্র আর সদ্য দম্পতির জন্যে দিনের আরম্ভ দেরীতে হতে পারে কিছুটা, পত্রিকা হকার আর মসজিদগামী কিছু মানুষের আবার দিনের শুরু হয় খুব ভোরে। বাবা বলতেন- ঈশ্বর বেহেশতের দরজা খুলে রাখেন ঠিক সূর্যোদয়ের মুহুর্তে। বেহেশতের বাতাসে দিন শুরুর লোভে অবশ্য খুব বেশি মানুষ ভোরে ওঠে না আজকাল, আবার ছাত্রদের প্রতিদিন পরীক্ষা থাকে না। শহরের দিনের শুরুও তাই বদলে বদলে যায়। কিন্তু বাড়িভাড়া নেবার আগে তো সন্ধ্যায় কখনো এদিকটায় আসিনি, নয়নতারা হাউজিং সোসাইটির চার নম্বর বাড়ির তেতলার ফ্ল্যাট ৩/ডি বাসায় উঠবার আগে তাই আমি জানতামই না ঘটনাটা।

শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১২

শত আশা

করাচির হোটেল পার্ল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বিছানায় শুয়ে ছিলেন ক্রেইগ ম্যাকমিলান। ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ তে পরাজয়ের পরে লাহোর টেস্টে ইনিংস আর ৩২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হার, নিউজিল্যান্ডার ম্যাকমিলানের মনোবল পড়তির দিকে- সন্দেহ নেই। বিশাল এক হাই তুলে ঘড়ির দিকে তাকালেন ম্যাকমিলান। ঘড়িতে বাজে সকাল পৌনে আটটা। স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্ট আর ঘন্টা দুয়েকের মাঝেই শুরু হবে করাচি স্টেডিয়ামে। ম্যাকমিলান উঠতে যাবেন বিছান থেকে... ঠিক সেই মুহুর্তেই কেঁপে উঠলো পৃথিবী।

রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১২

পুবের সূর্য

বন্যেরা বনে সুন্দর আর টাইগাররা খুলনায়- বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিলো জোর গুজব। সত্যতা আছে কথায়। খুলনার মাঠে দাপুটে দুই ম্যাচ জিতে আসা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ঢাকায় এসে একটু পালটে গেলো বোধহয়। দুটো ম্যাচেই জেতা সম্ভব ছিলো। একটা বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরির পর স্টিভ ওয়াহর স্যালুট রুপে তার লাল রুমাল জিতে নেয়া মারলন স্যামুয়েলস, ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পর্বে এসে নিজেকে যিনি বারবার চেনাচ্ছেন নতুন করে। দ্বিতীয় ম্যাচটা হয়ে রইলো বাংলাদেশের- ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস- ক্রিকেট প্রবাদের শিক্ষা, ইন্ডিজ রেনেঁসার কাপ্তান ড্যারেন সামি সেটায় ছিলেন শিক্ষক।

মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১২

রহস্য গল্প

কায়েস চৌধুরীর মাথার ভেতরে চিন্তা চলছে ঝড়ের গতিতে। সম্মেলনকেন্দ্রের ভেতরের মৃদু শব্দে চলা এয়ার কন্ডিশনারটাও পারছে না তার কপালের ঘামের ফোঁটাগুলোকে থামিয়ে দিতে। কফির কাপে চুমুক দিচ্ছেন কায়েস চৌধুরী। তেতো কফি- অন্য সময় হলে ছুঁড়ে ফেলে দিতেন তিনি এটাকে- এই মুহুর্তে ভ্রুক্ষেপও করছেন না সেদিকে। ভয় পেয়েছেন, কায়েস চৌধুরী ভয় পেয়েছেন...

প্রথমে হলুদ স্কার্ফে ফ্যাঁসফ্যাঁসে গলার স্বরে অলিভার আনিস, এরপর ডোরাকাটা হাতকাটা গেঞ্জির মোটর ফাইয়াজ। একের পর এক জট পাকিয়ে যাচ্ছে সব মাথার ভেতর...